তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকবে নন্দনকাননেই
উদ্ধার হওয়া ৫ শিশু ওরাংওটাংকে ফেরাতে নয়েদিল্লিকে চিঠি ইন্দোনেশিয়ার

৩৬৫ দিন। বালেশ্বরের জঙ্গলে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং আদতে ইন্দোনেশিয়ার? এবার উদ্ধার হওয়া ৫ ওরাংওটাং ফিরিয়ে নিতে নয়েদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করল ইন্দোনেশিয়া। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশু ওরাংওটাংদের ঠিকানা হবে নন্দনকাননেই। আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের হাত ধরেই তাদের ভারতে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গে এসে পৌঁছেছেন ওডিশা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। দিঘার হোটেল থেকে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। এ বার ওরাংওটাংগুলিকে দেশে ফেরাতে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করল ইন্দোনেশিয়া। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বালেশ্বরের একটি জঙ্গল থেকে ওরাংওটাংগুলিকে উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। আপাতত তাদের রাখা হয়েছে নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে। ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রকের জনসংযোগ ও বৈদেশিক সহযোগিতা ব্যুরোর প্রধান রিস্তিয়ান্তো প্রিবাদি বলেন, ‘প্রাণীগুলির শারীরিক গঠন দেখে মনে হচ্ছে, এগুলো সুমাত্রার ওরাংওটাং। তবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’
ওরাংওটাং সাধারণত সুমাত্রা এবং বোর্নিও দ্বীপে পাওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়ায় বোর্নিও দ্বীপকে অনেকে কালিমান্তান নামেও ডাকেন। আচমকা ভারতের জঙ্গলে তাদের সন্ধান মেলায় তাদের ভারতে পাচার করা হয়েছে বলেই সন্দেহ ইন্দোনেশিয়ার। তাই তাদের ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার রিপোর্ট এলেই তাদের প্রজাতি এবং জিনগত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাঁচটি ওরাংওটাংকে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ভারতের সাইটস ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, জাকার্তা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মিশন, ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সি এবং কৃষি মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করছে ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাণিজ্য সংক্রান্ত সাইটস-এর নিয়ম এবং ইন্দোনেশিয়ার আইন মেনেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে লিউসার ইকোসিস্টেম ফাউন্ডেশন , ইন্দোনেশিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ নেটওয়ার্ক, সেন্টার ফর ওরাংওটাং প্রোটেকশন এবং ইন্দোনেশিয়ান ওরাংওটাং ফোরাম।

Scroll to Top