গুন্ডা দমন আইনের অপব্যবহার হচ্ছে, গুণ্ডা দমন আইনে ইচ্ছেমতো পদক্ষেপ নয়, যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে সতর্ক করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

৩৬৫ দিন। উত্তরপ্রদেশ জুড়ে নির্বিচারে প্রয়োগ করা হচ্ছে গুণ্ডা দমন আইন। গুন্ডা দমন আইনের অপব্যবহার হচ্ছে নির্বিচারে। সরকার কোনও ভাবেই এই আইনকে ইচ্ছেমতো প্রয়োগ করতে পারে না। এমন পর্যবেক্ষণ করে উদ্বেগ প্রকাশ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একটি মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী বলেন, সরকার ইচ্ছেমতো এই আইন প্রয়োগ করতে পারে না। কাউকে গুণ্ডা ঘোষণা বা জেলা থেকে বহিষ্কারের আগে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সব প্রাসঙ্গিক দিক খতিয়ে দেখা জরুরি। এভাবে যে কাউকে গুন্ডা বানানো যায় না! একজন ব্যক্তিকে গুন্ডা ঘোষণা করার আগে সবদিক বিচার-বিশ্লেষণ করে নিতে হয়। এক কথায় বলাই যায়, গুন্ডা দমন আইনের প্রয়োগ নিয়ে আদালতে ধাক্কা খেলো বিজেপি সরকার!
মামলার প্রেক্ষিত
উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার মামলায় জাহিদ আলি নামে এক ব্যক্তিকে ছ’মাসের জন্য জেলা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১০ ও ২০২০ সালের দুটি মামলার উল্লেখ করে গুণ্ডা দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করেছিল পুলিশ। কিন্তু নথি খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট জানতে পারে, ২০১০ সালের মামলায় ২০১৭ সালেই জাহিদকে নির্দোষ ঘোষণা করেছিল আদালত। এর পরেই জেলাশাসকের ঘোষণা করা বহিষ্কারের নির্দেশ বাতিল করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতির প্রশ্ন, যে মামলায় কোনও ব্যক্তি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, সেই মামলাকে ভিত্তি করে কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে গুণ্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা যায় ? একই সঙ্গে হাইকোর্ট জানায়, ২০২০ সালে সংঘটিত কোনও অপরাধের ভিত্তিতে ৬ বছর পরে কাউকে গুণ্ডা ঘোষণা করা যায় না। জেলা থেকে বহিষ্কারের মতো নির্দেশ দেওয়ার আগে ম্যাজিস্ট্রেটকে আরও সতর্ক হতে হবে বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরেও একই পথে হেঁটেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও সম্প্রতি গুণ্ডা দমন আইন পাস হয়েছে। ওই আইনে অভিযুক্তকে জেলা থেকে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে। বিজেপি সরকারের আনা এই আইনের বিরোধিতা করেছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি।

Scroll to Top