৩৬৫ দিন। বছর পাঁচেকের প্রণয় সম্পর্কে দানা বেঁধেছিল সন্দেহ। সেই সন্দেহের বশেতেই প্রেমিকাকে মেসে ডেকে গলা কেটে খুন করল ২৩ বছরের প্রেমিক। দেহ বাইকে চাপিয়ে লোপাট করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেল সে। ভয়ঙ্কর হত্যাকান্ডে শিহরিত পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে অভিযুক্ত অমিত মাহাতো বাঘমুন্ডির একটি মেসে থেকে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রীতিকা মাহাতো নামে ২১ বছরের একটি মেয়ের সঙ্গে তার পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কয়েক মাস ধরে এই সম্পর্ক গ্রাস করে সন্দেহ। প্রীতিকার সঙ্গে অন্য কারোর সম্পর্ক আছে সন্দেহ করত অমিত। সেই নিয়ে দুজনের মধ্যে একাধিকবার ব্রেক আপ পরিস্থিতিও তৈরী হয় যদিও পরে সব মিটমাট হয়ে যায় কিন্তু সন্দেহ থেকেই যায় শেষ পর্যন্ত এই সন্দেহ এমন পর্যায়ে যায় যে অমিত প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠে। সে ঠিক করে প্রীতিকাকে একেবারে খুন-ই করে ফেলবে। পুলিশের অনুমান প্রেমিকাকে খুনের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে তৈরী করে অমিত।
কখন কি ভাবে খুন করা হবে কোথায় দেহ ফেলা হবে সব ছকে নিয়েছিল অমিত সে যে ধরা পড়ে তার জন্য দায়ী প্রেমিকার মৃত দেহে দ্রুত পচন আর কয়েক ফোঁটা রক্ত। সূত্রের খবর, জেরায় অমিত জানিয়েছে শনিবার বিকেলে ফুটবল ম্যাচ খেলতে যায় মেসের ১৬ জন এই সুযোগে ফাঁকা মেসে সে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে আসে। শারীরিক সম্পর্কের পর প্রেমিকার গলায় ছুরি চালিয়ে দেয় সে। প্রেমিকার মৃত্যু হলে সে দেহ তার ঘরে একটি বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে দেয়। তার পরিকল্পনা ছিল রাত বাড়লে বাইকে করে দেহ নিয়ে সে চলে যাবে জামসেদপুরের পুরনো রাজ্য সড়কে। সেখানে কোনো জলা বা নয়ানজুলি তে দেহ ফেলে দেবে। বর্ষায় এখন সব নয়ানজুলি জলে ভর্তি ফলে দেহ ফেলার সমস্যা হবে না। কিন্তু দুপুরে খুন হওয়া প্রেমিকার দেহ বস্তাবন্দি থাকায় তাতে দ্রুত পচন ধরতে শুরু করে। সন্ধ্যে গড়াতেই দেহ থেকে দুর্গন্ধ বেরতে শুরু করে।
ফলে ঝুঁকি নিতে পারেনি অমিত। বাইরে দেহ ভর্তি বস্তা চাপিয়ে সে বেরিয়ে যায় এদিকে মেস বাড়ির আবাসিকরা ফিরতেই তাদের নাকে মানুষ পচা গন্ধ আসে। সেই গন্ধ আরো তীব্র হয় অমিতের ঘরের কাছে যেতে সেখান থেকে বেশ কয়েক ফোঁটা রক্ত পাওয়া যায় এদিকে অমিত নেই। সন্দেহ হওয়াতে আবাসিকরা পুলিশে খবর দেয়। বাঘমুন্ডি থানার পুলিশ অমিতের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। টাওয়ার ডাম্প করে দেখা যায় অমিতের লোকেশন শেষ বার জামশেদপুর রাজ্য সড়কে দেখাচ্ছে। এই সূত্র ধরে তল্লাশি চালিয়ে রাতেই ধরা হয় অমিতকে। বাইকের পেছন থেকে উদ্ধার হয় প্রীতিকার দেহ। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ এ প্রসঙ্গে জানাচ্ছে, পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির বাসিন্দা বছর তেইশের অমিত মাহাতো ও একুশের প্রীতিকা মাহাতোর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর দু’জনই চলে আসেন পুরুলিয়া শহরে। অমিত রামকৃষ্ণ পল্লির একটি মেসে থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রীতিকাও একটি মেসে থাকতেন। কিন্তু সম্প্রতি অমিতের সন্দেহ হয় যে প্রেমিকার সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। আর সেই সন্দেহের বশেই প্রেমিকাকে খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে সে! তবে এর পেছনে অন্য কোনো মোটিভ আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফাঁকা মেসে প্রেমিকাকে গলা কেটে খুন বাইকে দেহ পাচারের সময় জামশেদপুর রাজ্য সড়ক থেকে গ্রেফতার প্রেমিক পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে নৃশংস হত্যাকান্ড




