৩৬৫ দিন। ফুটবলে বা যে কোনও খেলায় সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট আপনি একদিন হেরে গেলে সময় আবার আপনাকে তার বদলা নেওয়ার প্লাটফর্ম দেবে। মোহনবাগানের সামনে সোমবার ঠিক সেরকমই একটা প্লাটফর্ম অপেক্ষা করছে। প্রায় দশ দিন আগে ডুরান্ড ফাইনালে যেভাবে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক হেরেছিল সবুজ মেরুন সেটা তাদের আত্মসম্মানে ঘা দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। মোহনবাগান রক্তাক্ত হয়েছিল সেদিন। একটা বড় দলের চরিত্র তখনই বোঝা যায় যখন তারা মাঠে নেমে মুখে বড় কথা না বলে কাজে করে দেখাতে পারে। সমর্থকরা জয় চাইবেন, বদলা চাইবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকরাও সেটাই চান। কিন্তু মোহনবাগান ফুটবলার এবং কোচ নিজেদের কাজ মাঠে নেমে মাথা ঠান্ডা রেখে কতটা নির্ভুল থেকে সম্পন্ন করতে পারবেন তার ওপর নির্ভর করছে তাদের সাফল্য। অর্থাৎ সমর্থকদের প্রত্যাশা নিয়ে বেশি মাথা ঘামালে লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যেতে হতে পারে।
একটা পেশাদার দল কখনই সেটা করে না। মোহনবাগানের গ্রিক কোচ ডুরান্ড ফাইনালের দিন চার গোল খাওয়ার পর বাসে করে ফেরার পথে দেখছিলেন ইস্টবেঙ্গলের বিজয় উৎসব। দেখেছিলেন কিভাবে মাথা নামিয়ে লজ্জায় মোহনবাগান সমর্থকরা বাড়ি ফিরছেন। সেটা নিশ্চয়ই তিনি অনুভব করেছিলে। আর তার জবাবটা মুখে নয়, মাঠে দিতে হয় সেটা বিলক্ষণ জানেন পানোস। আশা করা যায় দলের ভেতরে এই ব্যাপারটা তিনি ফুটবলারদের বোঝাতে পেরেছেন এবং সম্মানের খাতিরে বড় ব্যবধানে জয়ের চেষ্টা করবে তার ছেলেরা সেটাও বুঝতে পেরেছেন। শোনা যাচ্ছে মোহনবাগানের বেশ কিছু সিনিয়র ছেলে এই ম্যাচটা খেলতে পারে। সঙ্গে ৬ জন সন অফ দা সয়েল থাকতে হবে।
মোহনবাগানের আক্রমণে সায়ন, কিয়ান, সাহল, মনবীর থাকবেন। পরে আসতে পারেন সুহেল। ডিফেন্সে শুভাশিস, রাহুল, মেহতাব এবং রাজ। মাঝখানে আপুইয়া এবং সন্দীপ মালিক। তন্ময় ঘোষ পরে আসবেন। নিজেদের ডিফেন্স শক্ত রেখে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে মোহনবাগান আক্রমণাত্মক খেলে। তবে বল কন্ট্রোল এবং মাঝমাঠ যেন নিজেদের দখলে থাকে প্র্যাকটিসে সেটাই বারবার ছেলেদের দেখিয়েছেন কোচ। বদলা নিতে হবে সেটা যেমন মাথায় থাকছে, আবার অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে ম্যাচের দখল হারানো যাবে না সেটাও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। ম্যাচটার গুরুত্ব হয়তো সেভাবে নেই সুপার সিক্স এ যাওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু মোহনবাগানের চার গোল হজম করার যে ক্ষত রয়েছে, সেটা কিছুটা লাঘব হবে এই ম্যাচটা ভালো করে জিততে পারলে। সেই আগুনটাই সোমবার বাগান ফুটবলারদের মধ্যে দেখতে চান সমর্থকরা। নামে নয়, কাজে কতটা করে দেখাতে পারেন সবুজ মেরুন ফুটবলাররা সেদিকেই তাকিয়ে থাকবেন মেরিনার্স ব্রিগেড।
মোহনবাগান শিবিরে বদলার আগুন! সায়ন, কিয়ানদের চোয়াল শক্ত
- khabar365din
- September 6, 2026
- 4:51 pm
- No Comments






