৩৬৫ দিন। লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের পর মোদির মুখে ফের দিমাগী নকশাল। দিলেন হোমিওপ্যাথি ডোজের খোঁচাও। শনিবার শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের (SRCC) শতবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, “যেই আমি ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে একটা হোমিওপ্যাথির গুলি বা ডোজ দিলাম, অমনি তারা একে একে নিজেদের গর্ত থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করল। শুধু তাই নয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই মানসিকতার ব্যাধিকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছিল, দেশের জনগণ এখন তাদেরও আসল চেহারাটা চিনে নিতে পেরেছে।” এর আগে ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন নকশালদের তার সরকাল দমন করলেও ‘দিমাগী নকশাল’ রা রয়ে গিয়েছে। এদের থেকে সাবধান থাকতে বলেছিলেন ছাত্র যুবদের। এক মাসের মধ্যে মোদির মুখে ফের দিমাগী নকশাল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
১৫ই আগস্ট, প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি সেইসব মানুষদের জন্য ব্যবহার করেছেন, যারা দেশবিরোধী বা নৈরাজ্যবাদী চিন্তাভাবনাকে প্রচার করে।
প্রধানমন্ত্রী বিগত সরকারের সময়ের কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি জানান, ২০১৩ সালে কেদারনাথের বিপর্যয় পুরো সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০০৯ সালে ব্যাঙ্কিং সংকট দেখা দেয়, তখনও তারা পিছু হটেছিল। ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলায় তৎকালীন সরকার পাকিস্তানকে কোনও শিক্ষাই দেয়নি। এর পাশাপাশি তাঁর সময়ের ঘটনার কথা উল্লেখ করে ভয়ঙ্কর একটি তথ্য প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, ‘দেশ এতগুলো ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হয়েছে, করোনা এসেছে, রাশিয়া, ইউক্রেন, বাণিজ্যে অচলাবস্থা, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলছিল, তাই ওই লোকেরা ভেবেছিল যে এই সময়ে তারা মোদীকে পিষে ফেলবে। কিন্তু যারা অমঙ্গল চেয়েছিল, তাদের ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেল।’ এই প্রসঙ্গে ককরোচদের মতে, দেশের তরুণদের প্রশ্নের জবাব না-দিয়ে তাদের উপর ‘বোকাবোকা তকমা’ লাগানো ঠিক নয়। প্রধানমন্ত্রী উচিত তরুণ প্রজন্মের মনে আশা জাগানো।একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর এ ধরনের কথাবার্তা ‘শোভনীয়’ কি না, প্রশ্ন তুলেছে সিজেপি। ‘ককরোচ’ দলের অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস মোদীর বক্তৃতার একটা অংশ নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। তাঁর মন্তব্য, ‘‘ভারতের অন্যতম সেরা কলেজে গিয়ে আবার প্রশ্নকারী তরুণ প্রজন্মকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে তকমা দেওয়াটা একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে লজ্জাজনক। তা-ও আবার শিক্ষক দিবসে।’’সৌরভের মতে, এসআরসিসি-র পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলতে পারতেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি না-দেওয়ার জন্য এসআরসিসি-তে হওয়া শিক্ষকদের প্রতিবাদের বিষয় থাকতে পারত প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায়। কিন্তু সেই সব বিষয়ে কথা না-বলে তরুণ প্রজন্মকেই ‘লক্ষ্যবস্তু’ বানান প্রধানমন্ত্রী, অভিযোগ ‘ককরোচ’ নেতার। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের প্রশ্ন করলেই কি তাঁরা ‘দিমাগি নকশাল’ হয়ে যাবেন, প্রশ্ন সৌরভের। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর কাজ তরুণদের মনে আশা জাগানো। কখনওই তাঁদের বোকাবোকা তকমা দেওয়া উচিত নয়। তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) উচিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, প্রশ্ন করার জন্য নিন্দা করা নয়।’’শুধু সৌরভ একা নন, সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কাও মোদীর বক্তৃতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘অনেকেই আশা করেছিলেন এসআরসিসি-র মতো স্বনামধন্য কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, চাকরি, শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু সেই সবের পরিবর্তে ‘দিমাগি নকশাল’ জাতীয় কথাবার্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর বক্তব্যের নিন্দায় সরব কংগ্রেসও। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের দাবি, ‘‘গণতান্ত্রিক দেশে প্রশ্ন তোলা বন্ধ করতে প্রতি বছরই নতুন নতুন বিশেষণে অভিহিত করেন, যাতে ব্যর্থতাগুলি ঢাকা পড়ে যায়।’’
‘যেই একটা হোমিওপ্যাথির ডোজ দিয়েছি, গর্ত থেকে সুড়সুড়িয়ে বেড়িয়েছে’
- khabar365din
- September 6, 2026
- 7:15 pm
- No Comments






