নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী
থাকছে ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম, ওপেন এয়ার থিয়েটার

৩৬৫ দিন।উত্তম ১০০।বৃহস্পতিবার টালিগঞ্জ থেকে নন্দন চত্বরে পদযাত্রা সহ শহরজুড়ে চলেছে অনুষ্ঠান।শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হবে এই ফিল্ম সেন্টার। সেখানে থাকবে দু’টি সিনেমা হল, প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট, কার পার্কিং, ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম, ওপেন এয়ার থিয়েটার এবং অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিক ও পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য ল্যাবরেটরি ও স্টুডিয়ো।এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,সব জায়গায় নাক গলানো আমাদের কাজ নয়। যাঁদের যেটা কাজ, তাঁদের নিয়েই তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।তিনি আরও যোগ করেন,আজ থেকে দু’শো বছর পর আমরা হয়তো কেউ থাকব না, কিন্তু এমন কিছু সৃষ্টি করে রেখে যেতে হবে যা বাংলা ও বাঙালি আজীবন মনে রাখবে।
ফিল্ম সেন্টারের প্রথম অংশে কি থাকবে
প্রথম অংশে থাকবে ৭০০ থেকে ৭৫০ আসনের দুটি সিনেমা হল। এর সঙ্গে থাকবে প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট এবং কার পার্কিংয়ের সুবিধা। অর্থাৎ চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং দর্শকদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, দুইয়েরই ব্যবস্থা থাকবে একই চত্বরে।
দ্বিতীয় অংশ
দ্বিতীয় অংশটি হবে মূলত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মঞ্চভিত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য। সেখানে থাকবে ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম। পাশাপাশি তৈরি হবে ওপেন এয়ার থিয়েটার। ফলে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য শিল্পচর্চার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে এই কেন্দ্র।
তৃতীয় অংশ
তৃতীয় অংশেই রয়েছে প্রকল্পটির সবচেয়ে আধুনিক এবং ভবিষ্যতমুখী পরিকল্পনা। অ্যানিমেশন,ভিজ্যুয়াল এফেক্টস,গেমিং,কমিকস এর মতো নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রের জন্য পরিকাঠামো তৈরি হবে। পাশাপাশি থাকবে সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশনের ল্যাবরেটরি এবং স্টুডিও। লক্ষ্য, এই কেন্দ্রকে শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শন বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জায়গা হিসেবে নয়, আগামী দিনের এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সহায়ক পরিকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা।বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অ্যানিমেশন এবং ভিজ্যুয়াল এফেক্টসের ব্যবহার যে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেই বাস্তবতাও মাথায় রাখা হয়েছে। পারিবারিক গল্পের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ছবির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ফলে পর্দায় আফ্রিকার জঙ্গল থেকে কাল্পনিক প্রাণী, প্রাচীন শহর থেকে সম্পূর্ণ কল্পিত জগত, নানা কিছু বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে ভিএফএক্স এর প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে।এতদিন এই ধরনের প্রযুক্তির জন্য অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভর করতে হয়েছে সীমিত পরিকাঠামোর উপর। নিউ টাউনের উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারে এই প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কলকাতা এবং বাংলার তরুণ প্রজন্ম চলচ্চিত্রের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। একইসঙ্গে নতুন প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে প্রযোজকদের জন্যও ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আগামী কয়েকবছরের মধ্যে তৈরি হবে
প্রকল্পের কাজও ইতিমধ্যে পরিকল্পনার পর্যায়ে এগিয়েছে। মাটি পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। চলছে ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরির কাজ। বর্ষা শেষ হওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের নির্মাণ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।প্রকল্পের পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করতে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মহানায়কের শতবর্ষ উদযাপনের কমিটির অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শও নেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনায় কী সংযোজন করা হবে, কী বাদ দেওয়া হবে, সেই বিষয়গুলিও আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করার কথা।
শহরজুড়ে অনুষ্ঠান
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নন্দন প্রাঙ্গণ থেকেই শুরু হয়েছিল উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। শোভাযাত্রা, কেক কাটা, পায়েস কাটার আয়োজন, আর তার সঙ্গে বাঙালির চেনা সন্ধ্যার আড্ডা, সব মিলিয়ে মহানায়ককে ঘিরে শহরের আবেগ যেন নতুন করে সামনে এসেছিল। সেই উদযাপনের মধ্যেই ছিল ভালোবাসার অন্যরকম প্রকাশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে অনেক কথাই।তাঁর কথায়, আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতে আটকে না থেকে একজন বাঙালি যেভাবে নিজের মানুষকে স্মরণ করে, সেই ভালোবাসা এবং আনন্দের আবহেই শুরু হয়েছে এই শতবর্ষ উদযাপন।

Scroll to Top