জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর ধামের মহারাজের প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রীর
লিলুয়ায় মঞ্চ থেকে ব্রিগেডের ডাক, ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশের প্রস্তাব শুভেন্দুর

৩৬৫ দিন। শুক্রবার জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে হাওড়ার লিলুয়ায় আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ‘শ্রী হনুমান কথা ও দিব্য দরবার’-এর মঞ্চ থেকেই বাগেশ্বর ধামের মহারাজকে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নিয়ে গিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের একটি বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের অনুষ্ঠানে ভক্তদের বিপুল সমাগমের মধ্যে মহারাজ-এর প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার সনাতনী মানুষ তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় আলোচনা এবং ভজন শোনার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছেন। জন্মাষ্টমীর মতো পবিত্র দিনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে আশীর্বাদ হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে উঠে আসে সনাতন সংস্কৃতি, ভারতীয় ঐতিহ্য, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গ। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, রাজ্যের জনবিন্যাসে পরিবর্তনের অভিযোগ, ‘ল্যান্ড জিহাদ’, ‘লাভ জিহাদ’ এবং জোর করে ধর্মান্তকরণের মতো বিষয় নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর দাবি, আইন ও সংবিধান মেনেই জনজাগরণের মাধ্যমে এই ধরনের ‘অশুভ শক্তি’র মোকাবিলা করতে হবে। নিজের সরকারের সাম্প্রতিক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার জমি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দাঙ্গা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায়ের জন্য আইন প্রণয়নের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা ও পরিকাঠামো নিয়েও নিজের সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রসঙ্গের পাশাপাশি শ্রাবণ মাসে সরকারি হেলিকপ্টারে পুষ্পবৃষ্টির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এদিন বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, মা সারদা, স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রীচৈতন্যদেবের সঙ্গে বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে কলকাতার পুরনো গরিমা ফিরিয়ে আনার বার্তা দেন তিনি। কলকাতাকে দেশের ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ হিসেবেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই ব্রিগেডে বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দ্রুত মহারাজের সময় নিয়ে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশ আয়োজন করা উচিত। ওই অনুষ্ঠানে মহারাজকে উপস্থিত থাকার আহ্বানও জানান তিনি। উল্লেখ্য, শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে লিলুয়ায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, বিধায়ক সঞ্জয় সিং-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

Scroll to Top