৩৬৫ দিন।ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধুনিক বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে নতুন ভাবনার বার্তা দিচ্ছে এবারের নিউ টাউনের সনাতনী দুর্গাপূজা ২০২৬। পুজোর থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে-সনাতন থেকে বিজ্ঞান-জ্ঞানের অনন্ত যাত্রা।আধ্যাত্মিকতার শিকড় থেকে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে একই সুতোয় বাঁধার অভিনব প্রয়াস দেখা যাবে এই মণ্ডপের থিমে।সনাতনের শিকড় ছুঁয়ে বিজ্ঞানের দিগন্তে এ বার নিউ টাউন সনাতনী দুর্গাপুজোর ভাবনায় ‘জ্ঞানের অনন্ত যাত্রা।কংক্রিটের বহুতল, চওড়া রাস্তা আর পরিকল্পিত নগরজীবনের মাঝেই শরৎ এলে সেখানে জেগে ওঠে অন্য এক শহর—আলোর, ঢাকের, ধূপের গন্ধের। উদ্যোক্তাদের এই অভিনব ভাবনায় এ বার যেন অতীতকে ছুঁয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর গল্প।সনাতন থেকে বিজ্ঞান ও জ্ঞানের অনন্ত যাত্রা এ বার পুজোর থিমেই সেই বার্তা স্পষ্ট। দর্শনার্থীর কাছে এটি শুধু একটি পুজোমণ্ডপ নয়, হয়ে উঠতে পারে জ্ঞান ও ভাবনার এক অভিনব যাত্রাপথ।নিউ টাউন মেলা গ্রাউন্ডের কাছে বিশ্ববাংলা গেট সংলগ্ন এলাকায় বসছে এ বারের পুজো। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বাঁশের কাঠামোয় ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে মণ্ডপের অবয়ব। কিন্তু মণ্ডপের চমক যতটা, তার চেয়েও বেশি আগ্রহ তৈরি করছে ভিতরের গল্পটি।
থিমের গল্প
পুজোর উদ্যোক্তা বরুণ বিশ্বাসের বক্তব্য অনুযায়ী, মণ্ডপে থাকবে দু’টি সুড়ঙ্গ।একটি পথ দর্শনার্থীকে নিয়ে যাবে সনাতনী ঐতিহ্যের দিকে, অন্যটি বিজ্ঞানের জগতে। দুই পথের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সভ্যতার জ্ঞানচর্চার বিবর্তনকে তুলে ধরাই লক্ষ্য। শূন্যের ধারণা থেকে গণিতের অগ্রগতি, প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যা থেকে শল্যচিকিৎসা-ভারতের জ্ঞানভাণ্ডারের নানা অধ্যায় এই উপস্থাপনায় জায়গা পাবে। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসক ও শল্যবিদ সুশ্রুতের অবদানও থাকবে বিশেষ গুরুত্বে। উদ্যোক্তাদের ভাবনায়, বিজ্ঞান কোনও বিচ্ছিন্ন আধুনিক অধ্যায় নয়-তার শিকড়ও খুঁজে পাওয়া যায় বহু পুরনো জ্ঞানচর্চার ভিতরে।এই ভাবনাই সম্ভবত পুজোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। কারণ, এখানে সনাতন শব্দটি শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকছে না,বরং ঐতিহ্য, জ্ঞান এবং উত্তরাধিকারের বৃহত্তর অর্থে তাকে দেখার চেষ্টা রয়েছে।
থিমের ভিড়ে সাবেকিয়ানা
আজকের দুর্গাপুজোয় থিম যেন অনিবার্য। প্রতিটি মণ্ডপের নিজস্ব গল্প, শিল্পভাবনা, আলো আর নির্মাণশৈলী থাকে। সেই প্রতিযোগিতার মধ্যেই নিউ টাউন সনাতনী দুর্গাপুজো একটু অন্য পথে হাঁটতে চাইছে।কার্তিক মহারাজের বক্তব্য, পুজোর মূল আচার-অনুষ্ঠানকে এ বার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে দুর্গাপুজো নানা ধরনের থিম ও উৎসবের রূপ নিয়েছে। সেই পরিবর্তনের মধ্যে কোথাও যেন মূল আচার পিছিয়ে পড়েছে। তাঁদের পুজোয় সেই জায়গাটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা থাকবে।অর্থাৎ মণ্ডপে থাকবে আধুনিক ভাবনা, কিন্তু পুজোর অন্তরে থাকবে সাবেকি পরম্পরা। থিমের চাকচিক্যের পাশাপাশি মন্ত্রোচ্চারণ, বিধি এবং ঐতিহ্যবাহী পুজোর রীতিই থাকবে কেন্দ্রবিন্দুতে।পুজোর সঙ্গে আবেগের যোগটাও অন্য রকম।
পুজোর প্রচার
পুজোর প্রচারেও ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যস্ততা। নিউ টাউনের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে বড় ব্যানার। পুজোর সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিও এ বার আয়োজনকে বাড়তি মাত্রা দিচ্ছে। পুজো কমিটির সভাপতি হিসেবে অভিনেতা ও সাংসদ জর্জ বেকারের নাম রয়েছে।
নিউ টাউনে উৎসবের দ্বৈরথ
একই সময়ে নিউ টাউনের সিটি স্কোয়ার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে নিউ টাউন সর্বজনীন দুর্গাপুজো। ফলে এ বার নিউ টাউনের পুজো মানচিত্রে দুই বড় আয়োজনই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হতে চলেছে।তবে সনাতনী পুজোর লক্ষ্য শুধু দর্শক টানা নয়। উদ্যোক্তাদের বক্তব্যে বারবার ফিরে আসছে ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ। আধুনিক নগরজীবনের মধ্যে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার সঙ্গে পরিচয় করানোই তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সেই কারণেই হয়তো এ বছরের পুজোকে শুধুমাত্র ‘থিম পুজো’ বললে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। এটি একই সঙ্গে স্মৃতি, ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং জিজ্ঞাসার গল্প।মণ্ডপের এক সুড়ঙ্গ হয়তো নিয়ে যাবে অতীতে, অন্যটি সামনে খুলে দেবে বিজ্ঞানের দরজা। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা যেন মনে করিয়ে দেবে ঐতিহ্য তখনই জীবন্ত থাকে, যখন তাকে নতুন সময়ের সঙ্গে কথা বলানো যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা নিউটাউনের বাসিন্দা সুব্রত গুপ্ত
নিউটাউনের দুর্গাপুজোর চেয়ারম্যান
- khabar365din
- September 4, 2026
- 8:35 pm
- No Comments




