৩৬৫ দিন। ত্রিশূলী ৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প লাগোয়া পাহাড়ি সুরঙ্গে কাদা মাটির স্তর কাটতে ড্রিল মেশিন চালাচ্ছিলেন নেপাল সেনার হাবিলদার রাম বাহাদুর, ক্ষীণ আওয়াজটা তখন-ই কানে এসেছিল। প্রথমটায় ভেবেছিলেন মনের ভুল প্রতিদিন সারাদিন এত লাশ ঘাঁটছেন পরে বুঝলেন না, এটা ভ্রম নয় সত্যি কেউ খুব ক্ষীণ স্বরে আর্তি জানাচ্ছে ‘বাঁচাও’! আর দেরী করেননি। প্রাণপনে ড্রিল করতে থাকেন রাম। তার চিৎকারে তখন আরো জঞি দশেক জওয়ান হাত লাগিয়েছেন। মিনিট দশেক পর কাদা মাটির স্তর সরিয়ে উঠে আসে একটা মুখ। মৃত নয় জীবিত। চোখ চাইছেন। ধীরে ধীরে কাদার স্তর কেটে আধ ঘন্টার চেষ্টায় বের করা হয় গোটা শরীর। এই ঘটনা যেখানে ঘটছে তার ৫০ মিটারের মধ্যে আরো এক জওয়ান জানায় সেও আর্তনাদ শুনতে পেয়েছে। উদ্ধারকারীরা বুঝে যান ত্রিশূলী ৩ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই সুরঙ্গ আর পাঁচটা সুরঙ্গের মত প্রাণহীন নয়। এখানে এখনো প্রাণ আছে, বাঁচার উদগ্র বাসনায় অলোকিক ঘটেছে। না হলে জল নেই খাবার নেই পর্যাপ্ত শ্বাস বায়ুটুকু নেই তার পরেও কাদা জলের তলায় কেউ ৯ দিন বাঁচতে পারে ! শেষ পাওয়া খবরে এই সুরঙ্গ থেকে ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ৭ জনের দেহ মিলেছে ঠিক-ই তবে সূত্রের খবর, ওই সুরঙ্গ থেকে এখনো আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে কেউ কেউ দাবি করছেন তাই নতুন করে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়েছে। সেনা সূত্রে জানা যাচ্ছে, যে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজনকে। সঞ্জয় ওই প্রকল্পের মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং কবীর মেকানিক্যাল সুপারভাইজ়র পদে কর্মরত। দু’জনকেই বর্তমানে জরুরি অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। যেখান থেকে এই দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে তা মাটির প্রায় ১৫০ মিটার গভীরে। সেনার কাছে যা তথ্য আছে তাতে ওই এলাকায় ৬৫ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। ৭ জনের দেহ আর ২ জনকে জীবিত উদ্ধার ধরলে ৯ জনের হদিশ মিলছে সেই হিসাবে আরো প্রায় ৫৬ জন এখনো নিখোঁজ। ২ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর আশা করা হচ্ছে আরো কয়েকজন সেখানে এখনো জীবিত রয়েছেন। তাদের খোঁজে তাই জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে।
হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে কামাল
ত্রিশূলী ৩ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে সব শ্রমিক ইঞ্জিনিয়ারয়াররা কাজ করছিলেন তারা বছর খানেক আগে নিজেদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খোলেন। বিপর্যয়ের সময় ওই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। বিপদের দিনে এই গ্রুপ-ই হয়ে উঠল ত্রাতা। কি ভাবে? কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে নেপাল সেনার এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হচ্ছে, ত্রিশূলীতে যখন উদ্ধার কাজ শুরু হয় তখন ত্রিশূলী ৩ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কোথায় ছিল তাই বুঝে উঠতে পারছিলেন না তারা। হন্যে হয়ে তারা যখন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ম্যাপ খুঁজছিলেন তখন-ই অ্যাকটিভ হয় এই হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ। সেখানে চটপট শেয়ার করে দেওয়া হয় ম্যাপ। ওই ম্যাপ দেখেই চিমনিতে প্রথম উদ্ধার কাজ শুরু করে সেনা। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে অ্যাড করা হয় ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আগে যারা কাজ করেছেন এমন অভিজ্ঞ শ্রমিক ইঞ্জিনিয়ারদের। পাহাড়ের কোন সুরঙ্গে কি ভাবে প্রবেশ করতে হবে তারাই গাইড করে দেন। সেই মত সুরঙ্গে ঢুকে কাজ করে সেনা পাঠান হয় জল অক্সিজেন। তাতেই মেলেই সাফল্য।
৯ দিন পর ত্রিশূলীর পাহাড়ি সুরঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২
আরো অনেকের আর্তনাদ শোনা গিয়েছে দাবি উদ্ধারকারীদের
- khabar365din
- September 4, 2026
- 7:36 pm
- No Comments




