ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত উদয়নারায়ণপুর ও আমতা ২ ব্লক

৩৬৫ দিন। উলুবেড়িয়া।পাপ্পা গুহ। ডিভিসির ছাড়া জল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উদয়নারায়ণপুরে দামোদর নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়তে শুরু করে। বাড়িঘর চাষের জমি, কিছু এলাকায় রাস্তা ডুবে যায়। নিচু এলাকা থেকে লোকেদের সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। আমতা দু নম্বর ব্লকের দ্বীপাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার উদয়নারায়পুরে আসেন হাওড়ার জেলা শাসক পি দিপাপপ্রিয়া, হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা, রাজ্য পুলিশের আই জি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কংকরপ্রসাদ বারুই, উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক মানস কুমার মন্ডল এবং আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত। তাঁরা উদয়নারায়নপুরের প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখেন। ত্রাণ ব্যবস্থার তদারকি করেন। বিধায়ক অমিত সামন্ত বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমি উদয়নারায়ণপুরে এসেছি। বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বন্যা দূর্গতদের জন্য শিবির খোলা হয়েছে। তাদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। ” বন্যা কবলিতদের পাশে রয়েছে সরকার প্রশাসন, এমনটাই দাবি প্রশাসনিক কর্তাদের।
বৃহস্পতিবার ডিভিসি ১ লক্ষ ৪৭ হাজার  কিউসেক জল ছেড়েছিল। সেই জল বৃহস্পতিবার রাত থেকে দামোদর নদী দিয়ে  উদয়নারায়ণপুরে আসে। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে  নদীর জলে কুরচী শিবপুর, ডিহিভ্যুরশুট এবং হরিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘোলা, আকনা, কুরচী, শিবানীপুর, মনসুকা, টোকাপুর মুসলিমপাড়া, টোকাপুর পূর্ব পাড়া এবং টোকাপুর গুছাইত পাড়ায় দামোদরের বাঁধ উপছে জল ঢুকে পড়ে। ব্লক প্রশাসনের কর্তারা জানান তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ৭ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। মোট প্রায় সাড়ে ছশো লোককে সেখানে সরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের এদিন দুপুরে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়। অপরদিকে ডিভিসির ছাড়া জলে মুন্ডেশ্বরী নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় আমতা ২ নম্বর ব্লকের দ্বীপাঞ্চল  ভাটোরা এবং ঘোড়াবেড়িয়া চিৎনান গ্রাম পঞ্চায়েত দুটির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এই দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতে তিনটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। তাতে ১২০ জনকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে ।

Scroll to Top