কালাচাঁদের কালাকাঁদে ছত্রাক! খবর গেল ফুড সেফটিতে

৩৬৫ দিন। নদীয়া। বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী। রাজ্যজুড়ে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের বিশেষ নজরদারি ও ধরপাকড় চলাকালীনই নদিয়ার শান্তিপুরে বাসি ও পচা মিষ্টি বিক্রির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। জন্মাষ্টমীর প্রসাদ হিসেবে কেনা মিষ্টিতে রাতারাতি সাদা ছত্রাক পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে শিশু ও প্রবীণরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।অভিযোগের তির শান্তিপুরের মাতালগড়/আটেশ্বরীতলা এলাকার ‘মদন গোপাল সুইটস’ নামের একটি মিষ্টি বিপণির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দোকানের মালিক কালাচাঁদ প্রামাণিক বিগত প্রায় তিন বছর ধরে কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্য দপ্তরের অনুমতি কিংবা সুস্পষ্ট সাইনবোর্ড ছাড়াই নির্বিঘ্নে দোকানটি পরিচালনা করে আসছেন।
ঘটনার সূত্রপাত জন্মাষ্টমীর দিন সন্ধ্যায়। স্থানীয় ক্রেতা রিপু দাস বাড়ির গোপাল পূজার জন্য ওই দোকান থেকে ১০ টাকা দরে ৬টি কালাকাঁদ মিষ্টি কেনেন। মিষ্টির প্যাকেটটি রাতে না খুলে ঠাকুরঘরে রেখে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে পুজোর থালায় প্রসাদ দেওয়ার জন্য প্যাকেট খুলতেই দেখা যায় মিষ্টিগুলোতে সাদা-কালো ছত্রাক পড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।ভুক্তভোগী মহিলার দাবি, এই বাসি মিষ্টি পুজোর প্রসাদ হিসেবে বাড়ির কচিকাঁচা ও বয়স্করা খেলে বড়সড় বিপদের মুখে পড়তেন। এ নিয়ে দোকানে প্রতিবাদ জানাতে গেলে মালিক কোনো সদুত্তর তো দেনইনি, উল্টে ‘ঢাকা দিয়ে রাখা হয়েছিল’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং নষ্ট মিষ্টি বদলে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চান।রাজ্যজুড়ে যখন ক্রেতাদের সুরক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় থাকার কথা, তখন কীভাবে দিনের পর দিন সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই এমন অস্বাস্থ্যকর মিষ্টির ব্যবসা চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন শান্তিপুরের বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই ভেজাল ও পচা মিষ্টি বিক্রির দায়ে দোকানটির বিরুদ্ধে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে  লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।

Scroll to Top