৩৬৫ দিন। ককরোচদের আন্দোলনে শেষে টনক নড়ল! আর টিনের চালের ছেঁচাবেড়ার নড়বড়ে ঘর নয় এবার পাকা ঘর পাচ্ছে রাজস্থানের রামপুরার গ্রামীণ স্কুল। রাজস্থানের শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, বগরু বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ওই স্কুলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৮ লক্ষ টাকা। পুরনো স্কুল ঘর ভেঙে দ্রুত তৈরী করে দেওয়া হবে আস্ত একটি স্কুল। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৮ লক্ষ টাকা দিয়ে অন্তত দুটি স্কুল ঘর তৈরী করে দেওয়া হবে তারপর ধীরে ধীরে স্কুলের কাজ এগোবে। সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা জীর্ণ ভবনটি ভাঙার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, “রামপুরার যে স্কুলটি আগে মহিষের গোয়ালে চলত, সেটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। যদিও রাজস্থান সরকারের দাবি, ককরোচ জনতা পার্টির চাপে নয় রাজস্থানের সব জরাজীর্ণ স্কুলের-ই সংস্কার কাজ চলছে। এক সঙ্গে স্কুলের সংস্কার সম্ভব নয় তাই ধাপে ধাপে কাজ হচ্ছে।
মার খাওয়া সার্থক
গ্রামীণ সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে দেশ জুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গত ১৫ অগস্ট এই কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা। সেই মতো গত ২১ অগস্ট অভিযান সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল জয়পুরের রামপুরার ওই স্কুল পরিদর্শনে যায়। কিন্তু গ্রামে ঢুকতেই একদল লোক ককরোচদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি শুরু করে। গাড়ি আটকে দেওয়া হয় এমনকি মারধরের চেষ্টা হয়। যদিও তারপরেও গ্রামে গিয়ে সেখানকার স্কুল ঘুরে দেখেন রাঙ্কারা। ভিডিও পোস্ট করা হয় যাতে দেখা যায় গরু মহিষের সঙ্গে বসেই কার্যত ক্লাস করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। গ্রামবাসীরা জানান, স্কুলের কোনও পাকা ভবন নেই। নামেই স্কুল, তারাই চাঁদা তুলে টিনের চালের দুটো ঘর বানিয়েছেন তাতেই চলে স্কুল। এবার নতুন স্কুল ভবন তৈরী শুরু হতেই তাকে আন্দোলনের জয় বলে দেখছেন রাঙ্কারা। তারা বলছেন ভালো কাজের জন্য যদি মার খেতে হয় তাহলে তাই সই! আমরা জানবো আমাদের মার খাওয়া সার্থক। সেই সঙ্গে ককরোচরা হুঁশিয়ারীও দিচ্ছে এটাই শেষ নয় বরং শুরু। এ ভাবেই দেশের সব রাজ্যের সব প্রত্যন্ত স্কুলে ঘুরবে তারা। সরকারকে বাধ্য করবে গ্রামীণ সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো তৈরীতে। রাঙ্কা বলেন, “নিরাপদ ও উন্নত শিক্ষা পরিকাঠামো প্রত্যেক পড়ুয়ার মৌলিক অধিকার।”
চাপে পড়ে বোধদয়
ডবল ইঞ্জিন রাজস্থান সরকার যতোই দাবি করুক তারা স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন করতোই কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ বিষয়টি মোটেই তা নয়। তারাও মানছেন ককরোচদের আন্দোলন-ই সরকারকে চাপে ফেলে। তারা বলছে ছাত্র ছাত্রীরা গোয়াল ঘরের পাশে বসে লেখা পড়া করছে এই ছবি সামনে আসতেই প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে যায় রাজস্থান সরকার। এই ছবি যে সমাজে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে তা বুঝতে পেরেই তড়ি ঘড়ি স্কুল ভবন সংস্কারে উদ্যোগ নিতে হয়। তার ওপর ককরোচদের স্কুলে ঢোকা আটকানোর চেষ্টা তাদের গাড়ই ভাঙাও ঠিক হয়নি বলে মনে করছে সেখানকার বিজেপি নেতৃত্বের-ই একাংশ। তাই বিষয়টিকে আর বাড়তে না দিয়ে শেষ পর্যন্ত টাকা বরাদ্দ করে দিয়ে স্কুল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত।
ককরোচদের আন্দোলনে শেষে টনক নড়ল! আর টিনের চালের ছেঁচাবেড়ার নড়বড়ে ঘর নয় এবার পাকা ঘর পাচ্ছে রাজস্থানের রামপুরার গ্রামীণ স্কুল,বরাদ্দ ১৮ লাখ
- khabar365din
- September 4, 2026
- 3:20 pm
- No Comments




