হাবাসকে ভরসা দিচ্ছেন দিয়েগো
আনোয়ারের সঙ্গে জুটি বাঁধতে তৈরি ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডার

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী । বেশ কয়েকদিন হয়েছে কলকাতায় পা রেখেছেন ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিদেশি ডিফেন্ডার দিয়েগো জিভুলিচ। ছয় ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা, ছটা ভাষায় কথা বলতে পারেন ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, রোমানিয়ায় খেলে আসা এই ফুটবলার। ক্রোয়েশিয়ায় ১৮ এবং ১৯ দলের সদস্য ছিলেন। ক্যারিয়ারে ৩০০ ওপর ম্যাচ খেলেছেন। এখন এসেছেন কলকাতায় লাল হলুদ জার্সি পড়ে ইস্টবেঙ্গলকে ভরসা দিতে। শেষবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগ যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল হলুদ তখন ডিফেন্স লাইনে আর্জেন্টিনার কেবিন সিবিলে দুরন্ত ফুটবল খেলেছিলেন। আনোয়ারের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ছিল দেখার মত।
কথায় বলে একজন স্ট্রাইকার ম্যাচ জেতায়, কিন্তু একজন ভালো ডিফেন্ডার চ্যাম্পিয়নশিপ জেতায়। ক্রোয়েশিয়ার এই নতুন ডিফেন্ডার সিবিলের ফেলে যাওয়া জায়গাটা ভরাট করতে পারবেন কিনা সময় বলবে। কিন্তু এই অল্প কয়েকদিনের প্র্যাকটিস দেখে মনে হয়েছে তিনি প্রথমত খুব ভালো টিম ম্যান। অর্থাৎ দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব নিতে পারেন। গতি একটু কম হলেও সেন্স খুব ভালো। একজন ভালো ডিফেন্ডারর প্রধান গুণ হল ট্যাকল না করে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড়ের থেকে বল কেড়ে নেওয়া। শেষ পর্যন্ত বল দেখা। সেই ক্ষমতা আছে দিয়েগোর। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আছে তলা থেকে। একজন বড় মাপের ডিফেন্ডারের যেটা স্বাভাবিক গুণ। অনুশীলনে দেখা গেছে ইস্টবেঙ্গলের কোচ লোপেজ হাবাস আলাদা করে কথা বলছেন তার সঙ্গে। হাবাস যখন একজন ফুটবলারের সঙ্গে আলাদা কথা বলেন বুঝতে হবে তার গুরুত্ব কতটা। হাবাস জানেন এই ফুটবলার যদি ইস্টবেঙ্গলে ক্লিক করে তাহলে তার অর্ধেক চিন্তা কমে যাবে। আর সঙ্গে রয়েছেন ভারতের সেরা ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। আনোয়ার শুধুমাত্র একজন ভালো ডিফেন্ডার নয়, ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ফুটবলার। যখন মোহনবাগানে ছিলেন নির্ভরতা দিয়েছেন, আবার ইস্টবেঙ্গল জার্সিতেও পারফর্ম করেছেন পরপর।
সঙ্গে ব্যাক আপ হিসেবে আছেন সন্দীপ মান্ডি। এই বাঙালি ডিফেন্ডার শেষ কয়েকটা ম্যাচে খুব ভালো পারফর্ম করেছেন। বড় দলের জার্সির ওজন নিতে তিনি তৈরি সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। হাবাস এই ছেলেটির ওপর ভরসা রাখবেন সেটা নিশ্চিত। এছাড়া জয় গুপ্ত এবং ডানদিকে হার্দিক ভাট নিজেদের চিনিয়েছেন। রাকিপ অস্কারের সময় নিয়মিত খেলতেন। তারপর তার চোট লাগল। এখন আর দলে জায়গা হচ্ছে না তার। সব মিলিয়ে সামনে এএফসি এবং তারপর আইএসএল। হাবাস যে ধরনের ম্যানেজার তাতে সবসময় দেখা গেছে দলের ডিফেন্স শক্ত করতে সব সময় তিনি ভালোবাসেন। কাউন্টার আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলেন। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে এভাবেই বাগানকে উড়িয়ে দিয়েছিল তার দল। এটাই তার ফুটবল ফিলোজফি। অতীতে যখন মোহনবাগানের কোচ ছিলেন এটাই করেছেন, তারপর কাশি দলেও তাই, এখন ইস্টবেঙ্গলেও তাই। এবছর এশিয়ান পর্যায়ে ভারতের সম্মান ইস্টবেঙ্গলের হাতে। বেশ কয়েকজন ভারতীয় ফুটবলার দলে নিয়েছে তারা। এদের মধ্যে অন্যতম রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ। এই মাঝে মাঠের ছেলেটি অত্যন্ত ভালো বল কন্ট্রোল করতে পারে এবং ঠিকানা লেখা বল বাড়াতে পারে। অতীতে মোহনবাগানে খেলে গিয়েছেন। তাই কলকাতা ফুটবলের ওজন সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। সব মিলিয়ে হাবাস এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স লাইন জোরদার করতেই বেশি মন দিয়েছেন। আর আক্রমণ ভাগ এবং মাঝমাঠের লিংক আপের দায়িত্ব দিয়েছেন রশিদকে। প্যালেস্টাইনের এই ফুটবলার যখনই মাঠে নামেন নিজেকে উজাড় করে দেন। ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে ডায়নামিক ফুটবলার তিনি। তাই নতুন ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার দিয়েগো যত তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে যান ততই মঙ্গল লাল হলুদের।

Scroll to Top