ফের একপেশে লড়াই , পাকিস্তানকে ৫৫ রানে বান্ডিল করলো ভারতের মেয়েরা, হরমনরা জয়ী ৭ উইকেটে

পাকিস্তান – ৫৫, ১৮.১ ( জুলফিকার ১৪, শ্রী চরনি ৭/৩)

ভারত – ৫৭/৩, ৮.৪ ( হরমনপ্রীত ১৮, ফতিমা ১৭/৩)

ভারত জয়ী ৭ উইকেট
৩৬৫ দিন।ভারত যে সবধরনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের থেকে বর্তমান সময়ে শত যোজন এগিয়ে তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেলো। শনিবার সন্ধ্যায় দুবাইতে মহিলাদের এশিয়া কাপের ম্যাচে ভারতের সামনে পাকিস্তান মাত্র ৫৫ রানেই অলআউট হয়ে গেলো। যা এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি -২০ ক্রিকেটে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর। পাকিস্তান ব্যাট করলো ১৮ ওভার ১ বল। ভারত ম্যাচ জিতলো ৭ উইকেটে। ভারত থাইল্যান্ড ও হংকং কে হারিয়ে আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ফলে ভারতের কাছে এদিনের ম্যাচ ছিলো নিয়মরক্ষার। কিন্তু শেষ চারে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানের কাছে এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। পাক অধিনায়ক ফতিমা সানা টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম উইকেটে দুই পাক ওপেনার মুনিবা আলি ও শাওয়াল জুলফিকার ২৭ রান যোগ করেন। এটাই এদিন তাদের সর্বাধিক রানের পার্টনারশিপ ছিলো। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে শেফালি ভার্মার বলে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন মুনিবা। ১৩ রানে ফিরে যান তিনি। এরপরই অপরিপক্ব, শিক্ষানবীশ সুলভ ব্যাটিং এর দৌলতে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে পাকিস্তান।
পিচে বোলারদের জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিলো না। পাকিস্তান ব্যাটারদের দিশাহীন , নির্বোধ ব্যাটিং প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই ভারতের হাতে ম্যাচ তুলে দিলো। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে পাকিস্তান মাত্র ৩৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেললো। ১৮.১ ওভারে অলআউট। মুনিবার সতীর্থ ওপেনার জুলফিকার দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করলেন। বাকি ৯ জন ব্যাটারের কেউ দুই অংকের ঘরেই পৌঁছলেন না। অধিনায়ক ফতিমা সানা সহ চারজন খাতাই খুলতে পারলেন না। আয়েশা জফর ২, সাদাফ শামস ৩, এমান ফাতিমা ৫, উমনে হানি ৬, তুবা হাসান ৯ রান করে আউট হন। ভারতের হয়ে লেগ স্পিনার প্রেমা রাওয়াত , বাঁ হাতি স্পিনার শ্রী চরনি তিনটি করে উইকেট নিলেন। দীপ্তি শর্মা নিলেন দুই উইকেট। এক উইকেট পেয়েছেন শেফালি। পাকিস্তানের একটি উইকেট রান আউট এর মধ্য দিয়ে এসেছে।
রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই পাকিস্তানের বাঁ হাতি স্পিনার সাদিয়া ইকবালকে লং অফের উপর দিয়ে ছয় মেরে দ্রুত রান তাড়া করার উদ্যেশ্য স্পষ্ট করে দেন শেফালি। কিন্তু যত দ্রুত ও সহজভাবে ভারত ম্যাচ শেষ করবে ভেবেছিলো, তা হলো না। পাক অধিনায়ক ফতিমা সানা ভারতের প্রথম তিন ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠিয়ে ভারতের রান তাড়া করার গতি কিছুটা হলেও শ্লথ করে দিলেন। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিলো ভারত। মাত্র ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে এদিনও ঘটলো ছোটখাটো বিপর্যয়। শেফালি ১২, মান্ধানা ৯, প্রতিকা ৪ রানে আউট হলেন। শেফালি বাদে বাকি দুজন ফুট ওয়ার্কের গাফিলতিতেই উইকেট হারালেন। কিন্তু ভারত অধিনায়ক হিসেবে ১৫০ তম ম্যাচ খেলা হরমনপ্রীত কউর ও দীপ্তি শর্মা পাকিস্তানকে কোনরকম ভাবে ম্যাচে ফেরার আর কোনো সুযোগ দেননি। ভারত অধিনায়ক ১৮ রানে ও দীপ্তি ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে শ্রী চরনি ম্যাচের সেরা হয়েছেন।

Scroll to Top