অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের মামলায় ইডি-কে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। লিপস অ্যান্ড বাউন্স-এর প্রসঙ্গ যত কম টানা যায় ততই আপনাদের তদন্তকারী সংস্থার জন্য ভালো। কারণ, তদন্তকারী সংস্থা বরাবরই লিপস অ্যান্ড বাউন্স-এর মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে চরম গড়িমসি ও ঢিলেমি দেখিয়েছে। এভাবেই আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। সুমিত রায়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে দেশের সলিসিটর জেনারেল দাবি করার পরেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের একের পর এক বিচারক এই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কখনই কোনো প্রকৃত সদিচ্ছা দেখা যায়নি। তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে মনে হয়, এজেন্সি কখনও অদ্ভুতভাবে শ্লথ হয়ে পড়ে, আবার কখনও প্রয়োজন ফুরোলে বা রাজনৈতিক স্বার্থে হঠাৎ করেই অতি তৎপর হয়ে ওঠে। অথচ তদন্ত প্রক্রিয়ায় সবসময় একটি নিখাদ নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকা অত্যন্ত বাধ্যতামূলক।
দেশে চলে সেটার জেনারেল ভুলবশত দাবি করে ফেলেন তদন্তকারী সংস্থা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারেনি। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সুমিত রায়ের আইনজীবী মনে করিয়ে দেন যে তদন্তকারী সংস্থার কথা বিচারপতিরা বলছেন তা হল কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।‌ সঙ্গে সঙ্গে যদিও নিজের ভুল সংশোধন করে নেন সলিসিটর জেনারেল। সুমিত রায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ অভিযোগ করেন, জেরার নামে তাঁর মক্কেলকে টানা এগারো দিন ধরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু মূল অভিযোগের বিষয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কোনো প্রশ্ন তাঁকে একবারও করা হয়নি। এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা পালটা সওয়াল করেন যে, সুমিত রায়কে সমস্ত প্রাসঙ্গিক এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্নই করা হয়েছে এবং সেই সমস্ত দাবির অকাট্য প্রমাণ তাঁদের কাছে সুরক্ষিত আছে। তিনি আরও জানান, এই প্রমাণগুলি খুব শীঘ্রই সিলমোহরবন্দি খামে আদালতে জমা দেওয়া হবে। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার জিজ্ঞাসাবাদের সমস্ত লিখিত ট্রান্সক্রিপ্ট বা প্রতিলিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী দফার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

Scroll to Top