জনপ্রতিনিধির হেনস্থা সুস্থ সমাজের লক্ষ্য নয়, তৃণমূল সাংসদ মহুয়াকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের,চাপড়ায় ফের হেনস্থা

৩৬৫ দিন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লাগাতার ‘হেনস্থা’র ঘটনায় কড়া পর্যবেক্ষণে হাইকোর্টের। মঙ্গলবার নদীয়ার চাপড়ায় মহুয়ার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ হয়। কালো পতাকা দেখানো হয়, মহুয়া অভিযোগ করেন তাকে শারীরিক হেনস্থার চেষ্টা হয়। হাইকোর্টে বিষয়টি তোলেন মহুয়ার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানিয়েছে, নিজের সংসদীয় এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সাধারণ জনসংযোগে গেলে এখন থেকে আরও দু’জন অতিরিক্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী পাবেন মহুয়া। মঙ্গলবার আদালতে কল্যাণ বলেন, মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তিনি জনপ্রতিনিধি। নিজের লোকসভা এলাকায় কর্মসূচিতে গেলে তাকে যদি হেনস্থা করা‌‌ হয় ডিম ছোড়া হয় তাহলে তা কোনও মতেই মানা যায়না।‌ অনেকে তো দল বদল করে নিরাপত্তা পেয়ে যাচ্ছে তাহলে মহুয়া কেন পাবেন না? কেন তাকে বার বার হেনস্থার শিকার হতে হবে।‌ একদল লোক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মহুয়াকে আক্রমণ করছে, ডিম ছুড়ছে, এটা বন্ধ হোক।‌ কল্যাণের সওয়ালের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘ একজন জনপ্রতিনিধিকে নিগ্রহ করা কখনো সুস্থ সমাজের লক্ষ্য হতে পারে না। রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকেই সাংসদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।’ এরপরেই মহুয়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশ দেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী ত্রিশ দিন যখনই মহুয়া মৈত্র নিজের লোকসভা কেন্দ্রে যাবেন, তার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে তার লিখিত বিবরণ দিতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সমস্ত অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। নদীয়া জেলার পুলিশ সুপারকে এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করতে বলা হয়েছে। আগামী এক মাস বা পরবর্তী ১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ সুরক্ষা বলয় বজায় থাকবে।

Scroll to Top