নিট বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার সুপ্রিম কোর্টের

৩৬৫ দিন। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে ২০-২৫ জুলাইয়ের মধ্যে দেশ জুড়ে যত এফ আই আর দায়ের হয়েছিল সবকটি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়,শীর্ষ আদালত ২০ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য বা তাকে সমর্থন করার জন্য দেশ জুড়ে যত এফ আই আর হয়েছিল তার সব কটি বাতিলের নির্দেশ দিচ্ছে। তবে ২৮৭৩ জন যাদের বিরুদ্ধে পূর্ব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ফের মামলা করতে পারবে পুলিশ‌।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল প্রত্যাহার করে নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।
আদালতে কেন্দ্রের সওয়াল
মঙ্গলবার কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশের তরফে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র সহ বেশ কিছু রাজ্য ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে তারা নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফ আই আর তুলে নিতে চায়। কেন্দ্রীয় সরকার বা দিল্লি পুলিশের-ও নিট আন্দোলনকারী যারা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে এফ আই আর তুলে নিতে আপত্তি নেই। তবে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে  অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে চায় পুলিশ। ২৫ জুলাই কেন্দ্রের দুই প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির দুই প্রতিনিধির বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল তাও সুপ্রিমকোর্টে পেশা করেন তিনি। মেহেতা জানান, নিট পরীক্ষা বাতিলের জেরে মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কেন্দ্র ভেবে দিচ্ছে। সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি মোহনার বেঞ্চ বলেন, আমরা তাহলে ২০-২৫জুলাইয়ের মধ্যে নিট আন্দোলনকারী যারা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দেন তাদের বিরুদ্ধে এফ আই আর বাতিলের নির্দেশে দিচ্ছি। নিট পরীক্ষা‌ বাতিলের জেরে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
কর্মসূচি প্রত্যাহার ককরোচদের
সুপ্রিমকোর্টের রায়ে দেশ জুড়ে নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যাবতীয় এফ আই আর তুলে নেওয়ার রায় সামনে আসার পরেই ককরোচদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় তারা ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে মিছিলের কর্মসূচি আপাতত প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ককরোচদের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, আমাদের মিছিল করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল নিট আন্দোলনকারীদের নামে এফ আই আর প্রত্যাহার না করা। তদন্তের নামে হেনস্থা করা হচ্ছিল পড়ুয়াদের। সুপ্রিমকোর্ট শুধু এফ আই আর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে তাই নয় ২০-২৫ জুলাই পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত-ও চালানো যাবে না। ফলে ভবিষ্যতে হেনস্তার পথ-ও বন্ধ করে দিয়েছে আদালত। তাই দাবি যখন পূরণ হয়েছে তখন মিছিলের পরিকল্পনা বাতিল করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, যন্তরমন্তরে ককরোচদের ছাত্র আন্দোলনে যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল এবং তা সামলাতে যে ভাবে কেন্দ্রকে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছিল তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর ককরোচদের মিছিল যাতে প্রত্যাহার হয় তার জন্য প্রথম থেকেই সক্রিয় ছিল কেন্দ্র। কিন্তু ককরোচরা অনড় থাকে ছাত্র আন্দোলনে যোগদানকারীদের বিরুদ্ধে এফ আই আর প্রত্যাহার করতেই হবে। শেষ পর্যন্ত তা মানতে বাধ্য হল কেন্দ্র।

Scroll to Top