মুর্শিদাবাদে বন্যার জলে ডুবে মৃত্যু দুই বালিকার

৩৬৫ দিন। সাত দিন ধরে বন্যার জল ঢুকেছে গ্রামে। রাস্তা, ধান খেত, জমি, বাড়ি, পুকুর সব ভেসে গিয়েছে। বাড়ির সামনে বন্যার জমা জলে স্নান করতে নেমেছিল চার বালিকা। তখন-ই ঘটল দুর্ঘটনা। বন্যার জলে তলিয়ে যায় চারজন-ই। দুজনকে কোনো রকমে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাঁচানো যায়নি বাকি দুজনকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, মৃত দুই বালিকার নাম আয়েশা খাতুন (১৩) এবং কুলছন খাতুন (১৩)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, গ্রামে বন্যা হলে সেই জলে ছোট ছেলে মেয়েরা নেমে খেলাধুলো করে।‌ কিন্তু এ ভাবে যে দুর্ঘটনা ঘটে যাবে তা কল্পনাও করা যায়নি। সম্ভবত জলের গভীরতা বুঝতে পারেনি চারটি শিশু অথবা হঠাৎ করে জল বেড়ে যাওয়ার ফলে তারা শরীরের ভার সাম্য হারিয়ে ফেলে একে অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে চারজন-ই তলিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, চক পরাসপুর অর্থাৎ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যে গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তার আশপাশের বিশাল এলাকা এখন বন্যার কবলে। ১০ দিন ধরে সেখানে বন্যা পরিস্থিতি। প্রশাসনের তরফে সচেতনতামূলক প্রচার চলছে কেউ যাতে জলে না নামে তার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে তার পরেও দুই শিশুর বন্যার জলে নেমে ডুবে মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। যদিও প্রশ্ন উঠছে বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের কেন ফ্লাড সেন্টারে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না।‌ জলে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তার পরেও কেন উদ্ধারের ব্যবস্থা হচ্ছে না।

Scroll to Top