ছোট্ট চায়ের দোকান থেকে শুরু, অভাব-সংগ্রাম পেরিয়ে আজ নিজের পরিচয়ে উটির কাবেরী

৩৬৫ দিন। উটির পাহাড়ি সকাল। চারপাশ তখন ঘন কুয়াশায় ঢাকা। দূরের চা-বাগান থেকে ভেসে আসছে পাতার গন্ধ। পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হওয়ার আগেই ছোট্ট দোকানটির শাটার তুলে দেন কাবেরী মুরুগেসান। কয়েক বছর আগেও এই দোকান ছিল তাঁর পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। আজ সেই দোকানই কাবেরীর নিজের পরিচয়।
কেট্টি ভ্যালির ছোট্ট বাড়িতে বেড়ে ওঠা
কাবেরীর জন্ম উটির কেট্টি ভ্যালির কাছে এক সাধারণ পরিবারে। বাবা মুরুগেসান স্থানীয় পর্যটন এলাকায় চা ও হালকা খাবার বিক্রি করতেন। মা লক্ষ্মী বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করতেন। অভাব ছিল, কিন্তু ছোটবেলায় স্বপ্নের কোনও অভাব ছিল না কাবেরীর।পাহাড়ের ঢালে স্কুলে যাওয়া, ফেরার পথে চা-বাগানের সবুজ দেখতে দেখতে বাড়ি ফেরা-এই ছিল তাঁর শৈশব। পর্যটকদের ভিড় দেখে ছোট থেকেই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত,এত দূর থেকে মানুষ উটিতে আসে কেন?তখনও তিনি জানতেন না, একদিন এই পর্যটকরাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই কাঁধে সংসারের দায়িত্ব
কাবেরীর বয়স যখন ১৫, তখন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা। পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার চায়ের দোকানে বসতে শুরু করেন কাবেরী।সকালে স্কুল, বিকেলে দোকান, রাতে পড়াশোনা-এই রুটিনেই কেটে যায় তাঁর কৈশোর। অনেক সময় দোকান বন্ধ করার পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে বই খুলে বসতেন তিনি। সহপাঠীরা যখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখত, কাবেরীর কাছে তখন ভবিষ্যৎ মানেই ছিল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
বাবার দোকান বদলে গেল নিজের স্বপ্নে
বাবার মৃত্যুর পর দোকানের পুরো দায়িত্ব নেন কাবেরী। তবে শুধু পুরনোভাবে দোকান চালিয়ে যেতে চাননি তিনি। পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে শুরু করেন তাঁদের পছন্দ।

Scroll to Top