জালালখালি বাজারে ভয়াবহ চুরি সর্বস্বান্ত দুই ব্যবসায়ী

খবর ৩৬৫। বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি।নদীয়া।জালালখালি বাজারে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ চুরির ঘটনা। সর্বস্ব লুঠ করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় ইলেকট্রনিক্স ও স্টুডিও—পাশাপাশি দুটি দোকানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইলেকট্রনিক্স দোকানের মালিক স্বরূপ রায় জানান, গত রাতে তাঁর মোবাইল ও ফ্রিজ-টিভির দোকানে দুষ্কৃতীরা হানা দেয়। সেখান থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার বেশি নগদ অর্থ এবং ৫০টিরও বেশি মোবাইল ফোন লুঠ করা হয়। প্রমাণ নষ্ট করতে দুষ্কৃতীরা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক সহ অন্যান্য সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়। যে সমস্ত ভারী জিনিসপত্র যেমন ফ্রিজ ও টিভি তারা নিয়ে যেতে পারেনি, সেগুলিতে সম্পূর্ণ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে গোটা দোকানটি পুড়ে কার্যত ভস্মীভূত হয়ে গেছে। স্বরূপবাবু আক্ষেপ করে বলেন, “গত ১২ বছর ধরে এখানে দোকান চালাচ্ছি, কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।” ঘটনার আঁচ পৌঁছায় পাশের দোকানেও।
‘স্টুডিও’-র মালিক বিনয় বিশ্বাস জানান, সকালে স্থানীয়দের মারফত তিনি জানতে পারেন পাশের দোকান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে এসে তারা দেখেন অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁর দোকানেও হানা দেওয়া হয়েছে। উপর থেকে ইট খুলে চোরেরা তাঁর স্টুডিওতে ঢোকে। স্টুডিওতে থাকা মূল্যবান সাতটি ক্যামেরার মধ্যে বেশ কয়েকটি দামী ক্যামেরা লুঠ করে চম্পট দেয় তারা। বাকি কিছু ক্যামেরা দোকানের মধ্যেই ভাঙচুর করা হয় এবং একটি ক্যামেরা ভাঙা অবস্থায় বাইরে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। তাঁর আনুমানিক প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী এবং বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ প্রশাসন। তবে ঠিক কারা এই চুরির নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

Scroll to Top