৩৬৫ দিন। সলমন খানের বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা। তাই দেখে অন্য বলিউড অভিনেতাদের উপর নজরদারির করছে লরেন্স বিশ্নোইয়ের দল? দাবি তদন্তকারীদের। তদন্তকারীদের দাবি, সলমনের বাড়িতে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা কঠিন বুঝতে পেরে বলিউডের অন্য অভিনেতাদের বাড়িতে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শুটারদের। সেই তালিকায় ছিলেন সঞ্জয়ও। সলমন এবং সঞ্জয় দীর্ঘদিনের বন্ধু। দু’জনের মধ্যে পেশাগত সম্পর্কও বহু বছরের। তাই সঞ্জয় তাদের নিশানায় ছিলেন বিশ্নোই গ্যাংয়ের। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, টাইগারের ঘটনায় ধৃত রেহান এবং ফুল সিংহ নামে দুই শুটার হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তারা মুম্বইয়ে আসে। তাদের সঙ্গে ছিল মধ্যপ্রদেশে বেআইনি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র। তবে নজরদারি চালানোর দিন অস্ত্রটি হোটেলেই রেখে গিয়েছিল তারা। তদন্তকারীদের দাবি, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সলমনের বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে নজরদারি চালায় ওই দুই যুবক। সেখানে অভিনেতার বাড়ির চার পাশে কড়া নিরাপত্তা দেখে তারা বুঝতে পারে, সরাসরি হামলা চালানো সহজ হবে না। 
এর পরেই তারা গ্যাংয়ের আর এক সদল্য অনিল পণ্ডিতকে বিষয়টি জানায়। অভিযোগ, অমিত পণ্ডিতই তাদের নির্দেশ দেয়, বলিউডের অন্য অভিনেতাদের বাড়িতে গিয়ে নজরদারি চালানোর জন্য। শুধু তা-ই নয়, বাড়ির চারপাশের ভিডিয়ো তুলে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সলমনের বাড়ির বাইরে থেকে একটি অটো ভাড়া করে অন্য অভিনেতাদের বাড়িতে যায় ওই দুই যুবক। অটোচালক ৪০০ টাকার বিনিময়ে তাদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে রাজি হন। প্রথমে আমির খানের বাড়ি, তার পরে ইমরান হাশমীর বাড়িতে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত পৌঁছোয় সঞ্জয় দত্তের পালি হিলের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে সঞ্জয় বাড়িতে রয়েছেন কি না, তা জানার চেষ্টা করে অভিযুক্তেরা। আশপাশে যাঁদের দেখতে পেয়েছিল, তাঁদের কাছে সঞ্জয় বাড়িতে রয়েছেন কি না, তা জানতে চায় তারা। ওই এলাকাতেও তারা নাকি ঠিক করে নজরদারি করতে পারেনি। বাড়িতে ঢোকার জায়গায় বড় বড় গাছ থাকায় ভিতরে কারা ঢুকছেন বা বেরোচ্ছেন, তা বোঝা কঠিন হয়ে উঠেছিল।শুধু সঞ্জয় বাড়িতে রয়েছেন কি না, তা জানাই নয়। বরং অভিনেতা তাঁর বাড়ির কোন তলায় থাকেন, কোন গাড়িতে যাতায়াত করেন এবং তাঁর সঙ্গে নিয়মিত কারা থাকেন, সেই তথ্যও জোগাড় করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের দাবি, সঞ্জয়কে বাড়ি থেকে বেরোতে বা গাড়িতে উঠতে দেখা যাচ্ছে, এমন ভিডিয়ো ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে খুঁজতে শুরু করে অভিযুক্তেরা। ভিডিয়োয় দেখা গাড়ির সঙ্গে আবাসনের ভিতরে রাখা গাড়িগুলির মিল খোঁজারও চেষ্টা করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সঞ্জয় কোন তলায় থাকেন বা তাঁর গাড়ি কোনটি, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। তদন্তকারীদের দাবি, ১৮ অক্টোবর অভিনেতার উপর গুলি চালানোর আগে হামলাকারীদের ইমরান হাশমীর বাড়িতে নজরদারি চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খোঁজখ বর করেও অভিনেতার বাড়ির সন্ধান পায়নি তারা। শেষপর্যন্ত একপ্রকার ব্যর্থ হয়েই নিজেদের ‘হ্যান্ডলার’দের বিষয়টি জানায় হামলাকারীরা। তদন্তকারীদের দাবি, টাইগারের উপর হামলার আগে সলমন খান এবং আমির খানের বাড়ির আশপাশেও রেকি চালিয়েছিল অভিযুক্তেরা। হিন্দুস্তান টাইমস-কে এক পুলিশ আধিকারিক বলেছেন, তসলমন বহুদিন ধরেই লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠীর নিশানায় রয়েছেন। এ বার তারা আমিরের বাড়িতেও নজর রাখার চেষ্টায় ছিল। কিন্তু আমির যে দক্ষিণ মুম্বইয়ে চলে গিয়েছেন, তা তারা জানত না। ফলে তাঁর বাড়িও ওরা খুঁজে পায়নি।দ এর পর ইমরানের বাড়িতে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় হামলাকারীদের। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়েও বাড়ির সন্ধান না পেয়ে তারা নিজেদের ‘হ্যান্ডলার’দের বিষয়টি জানায়। ওই পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ত™রে সমাজমাধ্যমে টাইগারের রিল্স দেখে তাঁকে নিশানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমাজমাধ্যম থেকেই তারা জানতে পারে, প্রতি রবিবার ফুটবল খেলতে জুহুর পুষ্প নারসি গ্রাউন্ডে যান টাইগার।



