তৃণমূলের কোনও কাউন্সিলর টিকিট পাবে না
সাফ কথা শমীকের

৩৬৫ দিন। তৃণমূলের কোনও কাউন্সিলর টিকিট পাবে না বিজেপির তরফে। ওনাদের শুভ বিজয়া জানাচ্ছি। কলকাতা এবং হাওড়ায় আসন্ন পুর নির্বাচনের আগে তৃণমূলের একাধিক বিদায়ী কাউন্সিলর বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে তা নস্যাৎ করে দিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য নির্বাচন কমিশন দূর্গা পূজার আগেই জানিয়ে দিয়েছিল দুর্গাপুজোর পরেই কলকাতা এবং হাওড়ায় নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্দিষ্ট হওয়ার পরেই। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন ধরেই নানা রকম জল্পনা চলছিল কলকাতা এবং হাওড়ার গতবারের পুর নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে যে সমস্ত নেতা নেত্রীরা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের একটা বড় অংশ নাকি এবারে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হতে পারেন। তবে আজ সেই জল্পনা উড়িয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
আজ একাদশীর দিন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আসন্ন পুর নির্বাচনে তৃণমূল নেতা নেত্রীদের প্রার্থী হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে সেই সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন, মানুষ নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। রাজ্যে ক্ষমতায় এনেছে শুধুমাত্র জামার পরিবর্তন নয়, ভিতরের মানুষটার পরিবর্তনের জন্য। সংসদীয়, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন সেটাই চূড়ান্ত। আমি আমার বিধায়কদের কার্যকলাপ সম্পর্কে কথা বলতে পারি। তারা কি করছেন কি করবেন সেটা নিয়ে মন্তব্য করতে পারি রাজ্য সভাপতি হিসেবে। তবে বিধানসভার ভিতরের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য চূড়ান্ত। বাকি কোন দলের কে আছে কে থাকবে না থাকবে সেটা নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না। তবে শুধুমাত্র রাজ্য বিজেপির সভাপতি একা নন, কলকাতায় বিজেপির পক্ষ থেকে পুর নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কয়েকদিন আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, কলকাতার সমস্ত আসনে একাই লড়াই করবে বিজেপি।
প্রসঙ্গত কলকাতা এবং হাওড়ায় পুরসভা নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি রণকৌশল ঠিক করার জন্য আজ রাতেই কলকাতায় আসছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশাল।
অন্যদিকে, দূর্গা পূজার সময় রাতের বিভিন্ন জায়গায় সিপিএম এবং অন্যান্য বামপন্থী দলগুলির দেওয়া বইয়ের স্টল ভাঙচুরের জন্য বামপন্থীদের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা আজ উড়িয়ে দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বুক স্টল ভাঙ্গা, বই মাটিতে ফেলে দেওয়া কিংবা এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে দূর দূর পর্যন্ত কোনো বিজেপি কর্মীর সম্পর্ক থাকতে পারে না তার কারণ আমরা যে ইউনিভার্সিটিতে যে বিচারধারার সঙ্গে যুক্ত, রাজনৈতিকভাবে বাজে শিক্ষায় শিক্ষিত তাতে কখনোই বই ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলা হয় না। ওখানে কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে দেখা গিয়েছে তারা থাকতে পারেন দর্শক হিসেবে হয়তো ছিলেন। যারা ওখানে ছিলেন ইতিমধ্যেই সাধারণ সম্পাদক সংগঠন অমিতাভ চক্রবর্তীর তরফে তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে কেন তাঁরা ছিলেন, কতক্ষণ ছিলেন বা বিস্তারিত কি হয়েছিল। এই ধরনের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতিতে বিজেপি বিশ্বাসী নয়।

Scroll to Top