তাকদা হাসপাতালের ওপর খসে পড়ল পাথরের চাঁই

৩৬৫ দিন। ধসে বিপর্যস্ত পাহাড়। ধসের কবলে হাসপাতাল ভেঙে পড়ে বিধ্বস্ত তাগদা।পাথরের চাই পাহাড় থেকে নেমে এসে ক্ষতিগ্রস্ত টয় ট্রেনের লাইন। শুক্রবার সাতসকালে দার্জিলিং তাকদার ধসে ভেঙে পড়ে হাসপাতালের একাংশ। তাকদা ব্লক ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালের দেওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়ে ঘটে বিপর্যয়। আহত রুগী পরিবারের এক। দার্জিলিঙের তাকদার ব্লক ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালের উপর সাতসকালে পাহাড়ে ধসে পাথরে চাঁই নেমে আসে। ধসের কবলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তাকদার ব্লক ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালের দেওয়াল। চিকিৎসাধীন রুগী, রুগী পরিজন ও স্বাস্থ্য কর্মী সহ ছয়জন আহত।
জানা গিয়েছে,সেসময় ওই ব্লক হাসপাতালের ভেতরে সাত সকালে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মী রুগী ও রুগী পরিজন মিলে সাতজন ছিলেন। আচমকা হুরমুড়িয়ে ধসের কবলে ভেঙে পড়ে হাসপাতাল। রুগী নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কোনরকমে বেরিয়ে আসেন প্রাণ হাতে নিয়ে। তবে ওই ধসের কবলে হাসপাতালের ভেতর আটকে পড়েন এক রুগী পরিজন। রুগীর বাবা আটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তৎক্ষণা দার্জিলিং জেলা হাসপাতালের স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অন্যান্য রুগীদেরও দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চোট রয়েছে অনেকেরই। তাকদার এই হাসপাতালটির উপর মূলত রংলি রংলিয়ট ব্লকের বাসিন্দারা নির্ভরশীল। দার্জিলিং থেকে আঠাশ কিলোমিটার দূরে এই হাসপাতাল।
ধসের কবলে ব্যাপকভাবে হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাত বেরাতে ভয়ঙ্কর সমস্যায় পড়তে হবে এলাকার বাসীদের।শারীরিক অসুস্থ্যতা, রুগী নিয়ে দার্জিলিঙ জেলা হাসপাতালে যাতায়াত সময় সাপেক্ষ।ফলে আতঙ্ক গ্রাস করেছে গোটা এলাকাকে। ধসের কারনে হাসপাতালের শয্যা থেকে পরিকাঠামো ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদের চাঙর খসে পড়েছে রুগী শয্যার উপর, পাথরের চাঁই হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়ে রয়েছে।অন্যদিকে দার্জিলিং শিব খোলা চা বাগান এলাকা রাস্তার উপর ধস নামে। পাথরের চাই গাছপালা হুরমুড়িয়ে রাস্তার উপর পড়ায় সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলা এর এফ ও এনডিআরএফ এর টিম সহ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মীদের টিম। সাংসদ রাজু বিস্ট বলেন-তাকদার ঘটনায় আমি দুঃখীত।গভীর রাতে ঘটনা ঘটেছে। দুজন আহত ব্যক্তিকে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিন সাংসদসহ পাহাড় ও হোম অ্যাফেয়ার্স এর প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা পাহাড়ে ধস প্রবণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। ধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিংথাম গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে গ্লিনবার্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার রাস্তা। এর ফলে ওই ব্লকের সঙ্গে দার্জিলিং জেলা সদরের যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ে লাগাদার বৃষ্টি ও ধসের জেরে বিপর্যয়ের মুখে বাতিল খেলনা ট্রেন পরিষেবাও। রংটং ও তিনধরিয়ার মাঝে হেরিটেজ খেলনা টেনের লাইনের উপর হুড়মুড়িয়ে পাথরের চাঁই নেমে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খেলনা ট্রেনের হেরিটেজ রেল ট্র্যাক। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের তরফে ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান ধসের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কার্শিয়াং মহানদীর কাছে ধসে হুড়মুড়িয়ে পাথরের চাই এসে পড়ে রেল লাইনের উপর।শুক্রবার খেলনা ট্রেনের নিয়মিত পরিষেবা বাতিল রয়েছে। শনিবারের মধ্যে দার্জিলিং ও নিউ জলপাইগুড়ির মাঝে খেলনা ট্রেনের নিয়মিত পরিষেবা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে জোড়কদমে প্রচেষ্টা চলছে। তবে এই সূত্রে জানা গিয়েছে শনিবার সকালে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী খেলনা ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে।রাজ্যের হিল ও হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা বলেন- এনডিআরএফ, এসডিআরএফ ও বিপর্যয় মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মীদের টিম মোতায়েন রয়েছে।দ্রুততার সঙ্গে ধস সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। রাজ্য সরকারকে প্রতি মুহূর্তের রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

Scroll to Top