কোনও দল, রং দেখব না একসঙ্গে লড়াই করব: মমতা

৩৬৫ দিন। বিজেপি বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে জোটবার্তা আরও জোরদার করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে শ্রীরামপুর কোর্ট মাঠের জনসভা থেকে মমতা জানিয়ে দিলেন, যে দল মানুষের স্বার্থে কাজ করবে, তাদের সঙ্গে তিনি থাকবেন। এদিন জনসভা থেকে মমতা বলেন, “সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ। জোটবদ্ধ। আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবেই লড়াই করব। কাল দিল্লিতে যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ-রা আন্দোলন করেছে। আমিও মহুয়াকে (মৈত্র) পাঠিয়েছিলাম। যে এই ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করবে, আমরা তাদের সঙ্গে আছি। আমরা দেখব না ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ না কি ‘জ়েড’ দল আন্দোলন করছে। কে লাল, কে নীল তা দেখার দরকার নেই। ইসুটা যদি মানুষের পক্ষে হয় কোন পার্টি, কী কালার তা দেখার দরকার নেই। ‌ আমরা থাকবো তাদের সঙ্গে। তারপর ৩০ তারিখে সম্ভবত আমাদের ইন্ডিয়া জোটের মিটিংটাও হচ্ছে। আমি সবাইকে বলব, গ্রেপ্তার হওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। চিরকাল সবাইকে গ্রেফতার করে রাখতে পারবে না।একজোট হন। নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতেই হবে।” এদিন মমতার সভায় আসার সময় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম পাথর ছোঁড়ে বিজেপি সমর্থকেরা বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা বলেন, “আমি আসার আগে শুনছিলাম উত্তরপাড়া জ্যাম করে রেখে দিয়েছে, জিটি রোড জ্যাম। আমাদের সভায় কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাদের বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ শুক্রবার রাতে সকলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে, ড্রোন দিয়ে ছবি তুলবে, যাঁদের সভায় যেতে দেখা যাবে, রাতে গ্রেফতার হবে। আপনারা আইনের রক্ষক, কেন ভক্ষক হবেন? যখন আপনি ফাঁসবেন, বিজেপিদের পাবেন না, আপনার পরিবার বিপদে পড়বে।”
মমতার অভিযোগ, “হানিমুন পিরিয়ড নয়, গুন্ডা দের পিরিয়ড, মানিমুন পিরিয়ড চলছে। আমাকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেয় না। কল্যাণের জন্য বিচারপতির নির্দেশ আজকে সভা করছি। বিজয়া দশমীর পরে আমরা এবার মিষ্টি খাওয়াবো না, কারণ বাংলার মানুষ কাঁদছে। এরা বাংলায় ক্ষমতায় এসে বলেছিল ভরসা ইন ভয় আউট। এখন হয়েছে ভয় ইন, ভরসা আউট। তোমরা বাংলা থেকে হবে গেট আউট।”
তৃণমূল বি টিম মমতা বলেন, “গদ্দারদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। ওরা বিজেপি। ওদের বিজেপির হাতে খেয়ে পড়ে থাকতে দিন। ওরা বিরোধীদল নয়, ওরা বিজেপির ট্রাস্টি। ওরাও একদিন চলে যাবে।”
প্রসঙ্গ এসআইআর
জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক নিয়ে এদিন সুর চড়িয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “এসআইএর নাম করে ৯৩ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছে। আমরাই প্রথম প্রশ্ন তুলেছিলাম, সীমা খান্নাকে নিয়ে। এআই ব্যবহার করে নাম ডিলিট করা হয়েছে। ৭০ লাখ নাম বাদ দিয়েছিল, আমরাই আদালতে কেস করে ৩২ লাখ তুলেছিলাম।”
আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে
মমতা বলেন, “‘আমিই প্রথম নাম দিয়েছিলাম, ভ্যানিশ কুমার, কেন দিয়েছিলাম, সবার নাম ভ্যানিশ করে দিয়েছে বলে। ইভিএম হাইজ্যাক থেকে শুরু করে মিডিয়াকে টাকা দিয়ে মিথ্যা খবর ছড়ানো- সবই ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসবে। বিহার, বাংলা, হরিয়ানাতেও একই ঘটনা ঘটেছে। ভ্যানিশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। যাঁরা ‘নারদ’ নিয়ে সরব, তাঁরাও একদিন গারদে যাবেন। তোমরা বাংলা দখল করেছ, আমরা দিল্লি দখল করব।”
বাংলা পথ দেখিয়েছে
মমতার কথায়, “এসআইআর-এ বাংলা পথ দেখিয়েছে। ভ্যানিশ কুমার ওয়াশিং মেশিনের নাম বাংলাই প্রথম বলেছে। সীমা খান্নার এআই এর নাম বাংলাই প্রথম সামনে এনেছে। ভ্যানিশ কুমারের বিদায়ের দাবিতে বিদায়ী ঘণ্টা বাজান। পুলিশ বাধা দিলে বাড়িতেই কাসর ঘণ্টা বাজান মা-বোনেরা।”
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে কেন গ্রেফতার?
উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ওঁকে কেন গ্রেফতার করা হল, ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে আমিও যুক্ত ছিলাম। আমার সমর্থন আছে কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে।”
অন্নপূর্ণায় নাম বাদ
অন্নপূর্ণা প্রকল্পের নামে বাংলার মহিলাদের ঠকিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার, অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভোটের আগে কাউকে বলেনি। তখন সবাইকে দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করিয়েছে। এখন কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রতি মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সব মা-বোনেদের দিতাম। ১৮ বছর বয়স থেকে আজীবন দেওয়া হত। এখন অন্নপূর্ণা প্রকল্পের নাম থেকে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।”
হকারদের উচ্ছেদ
হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, “গরিব হকারদের কাজ কেড়ে নিয়ে লক্ষাধিক মানুষকে বেকার করা হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আমরা হকারদের হয়ে আইনি লড়াই লড়ব। রাজ্য সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যেভাবে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে তার ফলে বিজেপি এই ‘অত্যাচারের’ জবাব পাবে।”

Scroll to Top