এবার পুদুচেরিতে মিড ডে মিলে মাছের ঝোল

৩৬৫ দিন। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলের মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইস্কনকে দেওয়ায় নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন পাইলট প্রোজেক্টের অধীনে এই নিরামিষ খাবার দিচ্ছে। এতে আমিষ – নিরামিষ বিতর্ক তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে যদিও আলাদা করে ছাত্র দের ডিম দেওয়ার কথা। এই আমিষ – নিরামিষ বিতর্কের মাঝে নতুন মাত্রা যোগ করল পুদুচেরি। এন ডি এ র শরিক শাসিত এই রাজ্যের তরফে সিদ্ধান্ত হয়েছে পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে পুদুচেরির ইয়ানাম অঞ্চলের স্কুলে এই মাছের পদ মিড ডি মিলের মেনুতে যুক্ত করা হবে।সব শিক্ষালয়ে চালুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে মিড ডে মিলের খাদ্য তালিকায় সুস্বাদু মাছের পদ রাখার নির্দেশ জারি-মিড ডে মিলে যাতে মাছের পদ রাখা যায় সেজন্য ধীরে ধীরে এগোতে চাইছে এন রঙ্গস্বামী সরকার। প্রথমে পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে এটি চালু হলে ও পরে সারা রাজ্যে তা  চালু করার ভাবনা নিয়েছে বিজেপির শরিক দলের শাসিত এই ছোট রাজ্য। রাজ্যের মন্ত্রী মল্লদি কৃষ্ণ রাও ধীরে ধীরে এই প্রকল্পের সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করেছেন। ইতিমধ্যে দক্ষিণ পূর্ব উপকূলের এই প্রান্তিক রাজ্য স্কুলে স্কুলে যাতে মাছের যোগান ঠিক থাকে সেজন্য শিল্প -বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনে থাকা মেরিন প্রোডাক্টস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। যাতে নিরবচ্ছিন্ন মাছের সরবরাহ বজায় থাকে, সেজন্য সমন্বয় গড়ে তুলে কাজ করছে। এই ধারাবাহিক প্রয়াসের মাধ্যমে পুদুচেরি কি আমিষ খাদ্যভ্যাস গড়ে তুলতে চাইছে, উঠছে সেই প্রশ্ন।
স্কুলের ছাত্র- ছাত্রীদের পুষ্টিকর খাবার প্রদানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ফলপ্রসূ করার চেষ্টা —বর্তমানে প্রাক প্রাথমিক স্কুলের মতো পি এম পিএইচ ও এন সহ বিভিন্ন সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যাহ্ন ভোজনের তালিকায় এই মৎস্য মুখী প্রকল্প চলবে। এছাড়াও বেসরকারি  ৬৫ হাজারের বেশি স্কুলে এই নব প্রকল্প চালু হবে। এল কেজি  থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ারা এই মিড ডে মিলের আওতায় আসবে। উল্লেখ্য, এখানকার সরকারি প্রাথমিক স্কুলের এই মিড ডে মিলের ৬০ শতাংশের খরচ দেয় রাজ্য সরকার। উচ্চতর শ্রেণির মধ্যাহ্ন ভোজনের পুরোটাই রাজ্য সরকার বহন করে। পাইলট প্রকল্পের জন্য রাঁধুনি সহ মহিলা কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান — এই পাইলট প্রকল্পের একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে। একদিকে যেমন পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য একদিন অন্তর এই ফিশ আইটেম দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে, তেমনি আবার সামুদ্রিক মাছ চাষ করে জীবন চালানো মানুষের জীবিকার উন্নয়ন করা।এর জন্য সম্প্রতি মন্ত্রীরা সামুদ্রিক মৎস্য রফতানি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান পি জহরের সঙ্গে বৈঠক করেন। আপাতত ফিশ ফিঙ্গার, ফিশ বল দেওয়া হবে। এরজন্য মহিলাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।ডিম ও দুধের আইটেমের মতোই মাছের সুস্বাদু পদ যাতে পড়ুয়াদের পছন্দ হয়।

বহুত্ববাদী শিক্ষা – সংস্কৃতির ভূমিতে বৈচিত্র্যেভরা খাদ্যাভ্যাস

একসময়ের  ফরাসিদের উপনিবেশ পুদুচেরিতে ফ্রেঞ্চ- তামিল সহ নানান পদ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এখানে বিরিয়ানি, ফ্রেঞ্চ কাটলেটের মতো চিকেন , ফিশের  নানান পদ ও ফিউশন ফুডের চল রয়েছে। দেশ- বিদেশের পর্যটক দের মতো উপকূল অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মাছের পদ খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ডিমের মতো সেই পুষ্টিকর মাছের পদ মেনুতে যুক্ত করে প্রশাসন ফিশ ফুড কালচার নতুন প্রজন্মের মধ্যে   চালু করতে চাইছে বলে অনেকের অভিমত।

Scroll to Top