৩৬৫ দিন। ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে রাম শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান অনুষ্ঠানে রাজ্যের সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং তীর্থ পর্যটন নিয়ে একাধিক বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে নারী নিরাপত্তা, মাদ্রাসায় বন্দেমাতরম, দুর্গাপুজোর নিয়ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরস্কার দেওয়ার বিষয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ রাজ্যকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।তাঁর দাবি, পরিস্থিতি অন্যরকম হলে তাঁকে জেলে পাঠানোর আশঙ্কা ছিল। এমনকী বাবা-মাকে ওড়িশায় পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও তিনি ভেবেছিলেন বলে জানান।
সংস্কৃতি ফেরানোর বার্তা
রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ‘সনাতন রাষ্ট্রীয় চেতনা’ নিয়েও আলোচনা উঠে আসে। এই চেতনা শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন। কোনও সাধু বা ধর্মীয় ব্যক্তির বক্তব্য কারও পছন্দ না হলে তা গ্রহণ না করার অধিকার রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সেই কারণে তাঁকে অপমান করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মাদ্রাসায় বন্দেমাতরম নিয়ে মন্তব্য
মাদ্রাসাতেও বন্দেমাতরম গাওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর বক্তব্যে একাধিক বিষয় উঠে আসে। পয়লা বৈশাখ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ কোনও খারাপ বিষয় নয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোরক্ষা নিয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। বকরি ইদের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারে উৎসব পালন হলেও গোমাতাকে হাত দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও গোহত্যা হতে দেবেন না বলে বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বকরি ঈদ প্রসঙ্গে
এবার আপনারা দেখেছেন বকরি ঈদ পালন করা হয়েছে, কিন্তু গো মাতার উপরে হাত দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এখানে এই কাজ করতে দেবো না। আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন, এখন আর ভয়ের পরিবেশ নেই। গোশালা লাগান, সরকার পূর্ণ সমর্থন করবে। পশ্চিমবঙ্গে শীঘ্রই ইউনিয়ন সিভিল কোড চালু হবে। পশ্চিমবঙ্গের রাম কোঠারি, ভারত কোটারির নামে রাস্তা করা উচিত। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে ওদের নামে পুরস্কার চালু করা উচিত।
‘যোগীজির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা’
নিজের কাজ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, তিনি ‘যোগীজির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ করছেন। পাশাপাশি রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সাধারণ মানুষের পরামর্শ দেওয়া নামের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথাও জানান।
দুর্গাপুজো নিয়ে কী বললেন?
দুর্গাপুজো নিয়েও একাধিক বিষয়ে নিজের অবস্থান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পিতৃপক্ষের সময়ে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা হবে না। প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রেও ক্রেন ব্যবহার না করার কথা জানান তিনি। এর পাশাপাশি দুর্গাপুজোকে ঘিরে রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তীর্থ পর্যটনের প্রসঙ্গেও বড় পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও তীর্থস্থানকে একটি পর্যটন পরিকাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মেলে। তবে প্রকল্পের নির্দিষ্ট স্থান, কাজের সময়সীমা এবং অর্থ বরাদ্দের বিস্তারিত সরকারি নথি এই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি। জাতীয় গ্রন্থাগারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এভাবেই রাজ্যের সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য, দুর্গাপুজো এবং তীর্থ পর্যটনকে ঘিরে একাধিক বিষয় উঠে আসে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ভারত কোঠারি রাম কোঠারি সনাতন সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য আত্ম বলিদান দিয়েছিলেন। এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে দিয়েছে। না হলে আমাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যেত। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা অনেক কাজ করেছি। কিন্তু এখনো কাজ বাকি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ আধ্যাত্মিক ভূমি। যেভাবে আমাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা হয়েছে তা ফেরত আনার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। দেশের সুরক্ষার খাতিরে আমরা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফকে জমি দিয়েছি। আমরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতাকে লাগু করেছি। নারী সম্মান সুরক্ষিত করবার জন্য কড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইন বলবৎ করা হয়েছে। আস্তে আস্তে এই পশ্চিমবঙ্গকে শুদ্ধ করার কাজ করতে হবে। রাজ্যের সকল স্কুলগুলিতে বন্দেমাতারাম সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখনো কিছু লোক আছে যারা আমাদের সনাতনী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
শহিদ কোঠারি ভাইদের নামে রাস্তা স্কোয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়, পুরস্কার




