৩৬৫ দিন। কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় চাইনিজ খাবারের ঠিকানা ট্যাংরার একটি রেস্তরাঁ ১৯ দিন বন্ধ থাকার পর ফের খুলে গেল। গত ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিদর্শনের পর রেস্তরাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রান্নাঘরের সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্যসামগ্রী সঠিক ভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর বুধবার থেকে ফের রেস্তরাঁটির দরজা খুলেছে।
ট্যাংরা থেকেই শুরু হয়েছিল পুরসভার অভিযান ট্যাংরায় কলকাতা পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়েছিল এই রেস্তরাঁ থেকেই। পরিদর্শনের সময় রান্নাঘরের বিভিন্ন বিষয়ে নজর দেওয়া হয়। বিশেষ করে হিমঘরে রাখা খাবারের গায়ে তারিখের উল্লেখ এবং খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ রান্নাঘরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রায় ৫০০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে রেস্তরাঁটিতে।পাশাপাশি রয়েছে বড় গাড়ি রাখার জায়গা। ৪ সেপ্টেম্বর পুরসভার অভিযান শুরু হওয়ার পর রান্নাঘরের সম্পূর্ণ সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়। ১৯ দিন বন্ধ থাকার পর সেই কাজ শেষ করে ফের পরিষেবা শুরু করা হয়েছে।
রান্নাঘরে বদল, কর্মীদের প্রশিক্ষণ
রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রান্নাঘরের মেঝে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেঝে বদলানো হয়েছে। দেওয়াল রং করার পাশাপাশি রান্নাঘরের বিভিন্ন কাউন্টারও পরিষ্কার করা হয়েছে।
শুধু পরিকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, কর্মীদেরও নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোন খাদ্যসামগ্রী কখন এসেছে, কত দিন পর্যন্ত তা ব্যবহার করা যাবে এবং কোন খাবার আগে ব্যবহার করা প্রয়োজন-এই সমস্ত বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
আগে আসা খাবার আগে ব্যবহারে জোর
রেস্তরাঁর কর্ণধার এডউইন হসিয়ে এর বক্তব্য, খাবারের গায়ে সঠিক ভাবে তারিখের ট্যাগ লাগানোর বিষয়টি কর্মীদের শেখানো হয়েছে। ফলে আগে আসা খাদ্যসামগ্রী আগে ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা সম্ভব হবে।বিশেষ করে হিমঘরে রাখা হিমায়িত খাবারের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। আগে সংরক্ষণ করা মাংস বা মাছ যাতে দীর্ঘদিন পড়ে না থাকে, সে দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দফায় আসা খাদ্যসামগ্রী আলাদা করে চিহ্নিত করে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনিবারে প্রয়োজন হয় ১২০ কেজি মুরগি
রেস্তরাঁটিতে প্রতি দিন বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল প্রয়োজন হয়। শনিবার, অর্থাৎ সপ্তাহের সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ১২০ কেজি মুরগির মাংস, ৮০ কেজি মাছ এবং প্রায় ৫০ কেজি চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার প্রয়োজন হয়।রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের দাবি, মুরগি ও চিংড়ির কয়েক দিনের মজুত রাখা হলেও মাছ প্রতিদিনই কেনা হয়। শনিবার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন ক্রেতা রেস্তরাঁটিতে খেতে আসেন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও ক্রেতার সংখ্যা ৩০০-র বেশি থাকে।
আরও কয়েকটি রেস্তরাঁও খুলেছে
কলকাতা পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা অভিযানের পর ট্যাংরা ছাড়াও শহরের একাধিক রেস্তরাঁ বন্ধ হয়েছিল। নিউ মার্কেটের নিজামস, মির্জা গালিব স্ট্রিটের করিমস এবং নাগেরবাজারের আরসালান-সহ কয়েকটি রেস্তরাঁও একই ভাবে পুরসভার নজরে এসেছিল। তাদের মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যেই ফের খুলেছে।ট্যাংরার এই রেস্তরাঁটিও গত সপ্তাহের শেষ দিকে খোলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সপ্তাহে একাধিক ছুটি থাকায় সংস্কারের কাজ শেষ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত বুধবার থেকে ফের পরিষেবা চালু করা হয়।
প্রথম দিনে তুলনামূলক কম ভিড়
দীর্ঘ ১৯ দিন বন্ধ থাকার পর রেস্তরাঁ খুললেও প্রথম দিনে ক্রেতার ভিড় ছিল তুলনামূলক কম। অনেকেই যে রেস্তরাঁটি ফের খুলেছে, তা জানতেন না। তার উপর বুধবার বৃষ্টিও হয়। ফলে ৫০টি টেবিলের মধ্যে প্রায় ১০টি টেবিলেই ক্রেতা ছিলেন বলে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।তবে রান্নাঘরের সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে ফের পরিষেবা শুরু করেছে ট্যাংরার এই জনপ্রিয় রেস্তরাঁ।
মহালয়ার আগেই ‘বিগ বস’ খুলে গেল রমরমিয়ে




