নির্বাচন কমিশনের অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ককরোচদের প্রস্তাব

৩৬৫ দিন। বিজেপির ওপর চাপ বাড়াতে ভোট বয়কট করুক দেশের সব বিরোধী দল, প্রস্তাব দিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। তারা বলছে, এতেই টনক নড়বে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের। সুপ্রিম কোর্ট কড়া মনোভাব নিতে বাধ্য হবে। তবেই দেশের মর্চে ধরা সংসদীয় গণতন্ত্র ফের অতীতের গরিমায় ফিরবে। ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পেয়ে মানুষ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের সরকার বাছতে পারবে। তাই এস আই আর নিয়ে যখন জ্ঞানেশ কুমারের একনায়কতন্ত্রের পর্দা ফাঁস হয়েছে তখন এটাই সঠিক সময় এস আই আর বিরোধীতা করে ভোট বয়কট করার। দাবি হোক একটাই আগে এস আই আর বাতিল কর্। পূর্বের ভোটার তালিকা ফিরিয়ে আনো। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করুন, নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের ধরতে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক তারপর দেশে ভোট হবে তার আগে নো ভোট। যদিও ককরোচ জনতা পার্টির ভোট বয়কট করে প্রতিবাদের রাস্তায় হাঁটতে নারাজ বিরোধী শিবির। তারা বলছে, ভোট বয়কটে বিজেপির কিছু যায় আসে না। ওরা ওয়াক ওভার পেয়ে যাবে। ককরোচদের বক্তব্য ককরোচরা বলছে, নির্বাচন ব্যবস্থায় সংস্কার আসুক তার পর দেশে ভোট হবে। শুক্রবার-ও ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকে বলেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপি মিলে নির্বাচন নামক ম্যাচটি ফিক্সিং করেছে। বিরোধী দল গুলো সেটা যানে। তারা জানে ইচ্ছে করে লোপ্পা ক্যাচ ফেলা হবে, রান আউট করিয়ে দেওয়া হবে তারপরেও তারা যদি সেই ম্যাচে যোগ দেন তাহলে তো হার নিশ্চিত আর তার চাইতেও বড় বিষয় হল দুর্নীতিকে জেনে শুনে সমর্থন করা। তাই প্রতিবাদ করতে হলে শুধু আন্দোলনে হবে না পরিষ্কার বলতে হবে নির্বাচন কমিশন বেআইনি কাজ করেছে। এস আই আর করে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। এস আই আর মানছি না তাই সংশোধিত ভোটার তালিকায় যে ভোট হয়েছে তাও মানছি না এবং আগামী দিনে ওই তালিকা দেখে ভোট হলে তাও মানবো না। অর্থাৎ ভোট বয়কট করতে হবে।
বিরোধীদের বক্তব্য
যদিও ককরোচদের এই দাবির সঙ্গে সহমত নয় কংগ্রেস, তৃণমূল, বামেরা। কংগ্রেস বলছে, ককরোচরা ঠিক-ই বলছে, নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছে কিন্তু তা বলে রাগ করে নির্বাচনে যোগ দেব না তা হয় না। মনে রাখতে হবে একটি রাজনৈতিক দলের কাছে নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে একটি। দলের নাম ও প্রতীকে মানুষ ভোট দেন। এটা পরিচয় রক্ষার বিষয়। সেখানে ভোটে যদি কংগ্রেস দলের নাম হাত চিহ্ন প্রতীক না থাকে তাহলে তো অস্তিত্বের সমস্যা। অত এব যত দুর্নীতি চক্রান্ত-ই হোক না কেন পথে নেমে তার প্রতিবাদ করতে হবে, মানুষকে বোঝাতে হবে, সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে। পরিবর্তন এর মধ্যে দিয়েই হবে।নির্বাচনে লড়ব না, এটা রাজনৈতিক দল বলতে পারে না। তৃণমূল- এ দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলছেন, নির্বাচন বয়কট করলে বিজেপির কিছুই যায় আসবে না। ওরা সব ভোট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জিতে নেবে। তাই ভোট বয়কট সমাধান হতে পারে না। এতে বিজেপি ওয়াক ওভার পেয়ে যাবে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-ও বলছেন, ভোট বয়কট সমাধান নয়। তাঁর কথায় আমরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই। জাতীয় নির্বাচন কমিশন, বিজেপি, কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন করে দাবি আদায় করবো আমরা।এটাই পথ হওয়া উচিৎ। সপা, ডিএমকে-র মত দল-ও বলছে, ভোট বয়কট করে ঘরে বসে থাকবো এটা হয়না। এতে নেতা কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে। ককরোচদের সঙ্গে এ বিষয়ে তারা একমত নয়।

Scroll to Top