৩৬৫ দিন। শ্রীরামপুরে মমতার সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ। গাড়ি ঘিরে যথেচ্ছ ডিম পাথর ছোড়া হয়। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণালের অভিযোগ হামলার সময় পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে তারা কিছুই করেনি। ঘটনার কড়া নিন্দা করে মমতা লেখেন, ‘কুণালের ওপর হামলা গণতন্ত্রের অশনি সঙ্কেত’। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর শ্রীরামপুর কোর্ট মাঠে সভা করার অনুমতি পান মমতা। শনিবার দুপুর ২ টো নাগাদ সেই সভায় যোগ দিতে জিটি রোড ধরে শ্রীরামপুর আসছিলেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপাড়ার সখেরবাজারে তার গাড়ির সামনে কয়েকজন দাঁড়িয়ে পড়ে। তাকে ফিরে যেতে হুমকি দেওয়া হয়। এরপরেই গাড়ি লক্ষ্য করে মুড়ি মুড়কির মত ডিম ছোড়া হয়। লাঠি মেরে গাড়ির কাঁচ ভাঙার চেষ্টা হয়। কুণাল বলেন,‘‘চালকের পাশে বসি আমি। আমাকে নিশানা করে পাথর ছোড়া হয়। আমার শরীর কাচে ভর্তি।’’ কুণালের কথায়, লাঠি দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভাঙা যাচ্ছে না দেখে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা পাথর দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয়। এই গোটা পর্বে পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে ছিল বলে অভিযোগ তাঁর। তৃণমূল এ -র অভিযোগ মমতার সভা বান চাল করতে গত কাল রাত থেকে হুগলি জেলা জুড়ে হামলা চালাচ্ছে বিজেপি। পুলিশ দিয়ে একের পর এক নেতা নেত্রীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
রিষড়া থেকে এক জেলা পরিষদ সদস্যাকে গ্রেফতার করা হয় কাল মাঝরাতে। এবার কুণালের ওপর হামলা হল। যদিও কুণাল বলছেন, হামলা চালিয়ে মমতা তৃণমূলকে আটকানো যাবে না। যদিও বিজেপির দাবি, এই ঘটনায় তাদের কেউ জড়িত নয়। এটা গণতান্ত্রিক তৃণমূলের সঙ্গে মমতা তৃণমূলের লড়াই। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট বলছে, বিধায়কের গাড়িতে ডিম ছোড়ার ঘটনার তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার পর কাঁচ ভাঙা গাড়ি নিয়েই রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবনে আসেন কুণাল। গাড়ি নিয়ে ভবানী ভবনে ঢুকতে গেলে তাঁকে বাধা দেয় পুলিশ। এই নিয়ে তাঁর সঙ্গে পুলিশের বেশ কিছুক্ষণ বচসা হয়। ভবানী ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, ‘ উত্তরপাড়ায় আমার গাড়ি ভাঙা হয়েছে। উত্তরপাড়া থানা ভবানীভবনের আওতায় পড়ে। তাই এখানে অভিযোগ জানাতে এসেছি। আমার তো মৃত্যু হতে পারতো যে ভাবে গাড়ি ভাঙা হয়েছে। লাঠি, ডিম, রড, শাবল, পাথর দিয়ে গাড়ি ভাঙা হয়েছে। চালক তৎপরতা না দেখালে মরেই যেতাম।’ পুলিশের ভুমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ পুলিশ তো চাইলেই পারত অশান্তি ঠেকাতে। কেন হামলা হতে পারে খবর ছিল না। উত্তরপাড়ার মত জায়গায় রাস্তা আটকে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে হামলা হল। পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিল না?’ এদিকে কুণালের ওপর হামলার পর উত্তরপাড়া, কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
শ্রীরামপুরে মমতার সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলা




