মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, বাংলায় শাক্ত, বৈষ্ণব সমন্বয় রক্ষা করা হয়

৩৬৫ দিন। হাওড়ার লিলুয়ায় একটি অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর বাবা সনাতনী রীতি মেনে,দুর্গাপুজোর কদিন, আমিষ ছেড়ে নিরামিষ খাওয়ার পরামর্শ দেন বাঙালিদের।একইসঙ্গে তিনি বাঙালি আমিষভোজীদের প্রাখণ্ডী বা ভণ্ড বলেন বলে অভিযোগ। দুর্গাপুজোর আগে আমিষ -নিরামিষ বিতর্ক চরমে ওঠায় এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।শনিবার একটি অনুষ্ঠানে বিতর্কিত বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধর্মগুরু এসেছিলেন তিনি তাঁর কথা বলে গেছেন। যাঁরা মানতে পারবেন, তাঁরা মানবেন, যাঁরা মানতে পারবেন না, তাঁরা মানবেন না। আমাদের এখানে শাক্ত ও বৈষ্ণব, দুই ধরনের মতই আছে। ’পুজোর আগে আমিষ –নিরামিষ বিতর্ক বাড়ছে, মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী’বাঙালির দুর্গাপুজোয় ভুরিভোজের এলাহি আয়োজন থাকে। সাধারণত, মধ্যবিত্ত মানুষেরা বাড়ির বাইরে খেতে পছন্দ করেন। অষ্টমীর দিন কেউ কেউ লুচি -আলুর দম, পোলাও খেলেও বাকি দিনগুলো দেদার খাওয়া দাওয়া করেন কব্জি ডুবিয়ে। এরমধ্যে বাগেশ্বর বাবার -নিরামিষ খাওয়ার নিদান বিতর্কের ঝড় তোলে, রাজ্যজুড়ে। এই অবস্থায় বাঙালি সেন্টিমেন্ট বুঝে ব্যাট ধরেন শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি জানেন, নবমীতে পাঁঠার মাংস ছাড়া চলে না। বাঙালির এই খাদ্য বিলাসের কথা মাথায় রেখে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, নবমীর দিন বাঙালি পাঠার মাংস খাবে এটাই চলে আসছে। এই নিয়ে কে কী বলল, তাই নিয়ে কারুর কিছু আসে যায় না। অগ্নি মিত্রা পাল ও একই রকম ভাবে পুজোর সময় আমিষ খাওয়া নিয়ে কোনোরকম, আপত্তি উড়িয়ে দেন। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিতর্কিত ও চর্চিত বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেউ -নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দেন , ভোগ নিবেদন করেন বৈষ্ণব মতে, আবার শাক্ত মতে,মাছের ভোগ দেওয়া হয়।বাঙালি -নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দেয়, আবার মাছ দিয়ে প্রসাদ দিতে জানে। আমি নিজে কৌশিকী অমবস্যায় মাকে নিবেদন করা মাছের ভোগ, পোলাও খেলাম।
আবার রাধাষ্টমী তে বাগবাজারে যাবো সাত্ত্বিক মতে ভোগ খেতে, এই নিয়ে কোনও বিরোধ নেই। বাঙালি শাক্ত ও বৈষ্ণব দুই ধরণের রীতি অনুযায়ী চলে’ ‘চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর চোখের জল সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছে, আমার এই বিষয়ে যন্ত্রণার অনুভূতি রয়েছে, আমার মাকে একসময় এক কাপড়ে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল’ বাংলাদেশের ইসকনের সদস্য চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু দীর্ঘদিন রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সেদেশের জেলে রয়েছেন। তার মার্তৃবিয়োগ হয়। এই কারণে প্যারোলে তাকে ছাড়া হয়। তাকে চোখে জল নিয়ে মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার যোগ দিতে দেখা যায়। সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী,তিনি বলেন, ক্ষ্মআমি দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, একই পরিণতি আমাদের হত। চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর চোখে জল সনাতনী দের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, না থাকলে আমাদের একইরকম দেশ ভাগের যন্ত্রণা ভোগ করতে হতো। আমার এই বিষয়ে অনুভূতি রয়েছে। কারণ আমার মার্তৃ দেবীকে তাঁর বাবার সঙ্গে এক কাপড়ে ওপার বাংলা ছাড়তে হয়েছিল। বরিশাল থেকে তাঁরা এই দেশে চলে এসেছিলেন। ‘‘৩৪ বছরে পুজো -অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি সব ভুলিয়ে দেওয়া হয়, পুজোয় স্টল দেব, দুর্গাপূজা লিখবো না, চলবে না, মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বামেরা’ শহরের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেশভাগের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বামেদের বেঁধেন।শনিবার তিনি আরও একবার ধর্মীয় রীতি নীতি না মানার অভিযোগ করে বামেদের কটাক্ষ করেন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ৩৪ বছরে রাজ্যে পুজো অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, সব ভুলিয়ে দেওয়া হয়। ওরা দুর্গাপূজা লিখবে না,মহালয়া শুনবে না, মণ্ডপে ঢুকে পুষ্পাঞ্জলি দেবে না,ওসব হবে না টাকা আরও লাগলে দেবো, কখনও মোবাইল ফোন দেবো না একাদশ দ্বাদশের ছাত্রদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর কোভিডের সময় তৎকালীন রাজ্য সরকার, অনলাইন শিক্ষা দানের কথা তুলে ধরে, একাদশ – দ্বাদশ এর পড়ুয়াদের ট্যাব দেওয়ার ব্যবস্থা করে। সেই থেকে রাজ্যের পড়ুয়াদের হাতে ট্যাব দেওয়ার পদ্ধতি চালু করা হয়। পড়ুয়াদের হাতে মোবাইল চলে যাওয়ায় বদ অভ্যাস তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই অভ্যাস বদল করার কথা কয়েকদিন ধরে উল্লেখ করে চলেছেন তিনি। মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমানোর কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, আগের সরকার মোবাইল দিয়ে ছাত্রদের অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে। ছাত্র -ছাত্রীরা ব্রতচারীতে অংশগ্রহণ করুন। আপনারা গুজরাত মডেল অনুসরণ করুন। আগামী দিনে আরও বেশি অর্থ লাগলে প্রয়োজনে দেবো, কিন্তু মোবাইল কখনই দেবো না ছাত্রদের। ছাত্র-ছাত্রীদের এই অভ্যাস ছেড়ে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Scroll to Top