৩৬৫দিন। অগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে তার খপ্পরে পড়ে মৃত্যু হয়েছে চার জনের। তাঁদের মধ্যে দু’জনের প্রাণ গিয়েছে সেপ্টেম্বরের শুরুতে। মানুষখেকো সেই বাঘিনিকে দেওয়া হয়েছিল ঘুমপাড়ানি ওষুধ। কিন্তু হঠাৎই পাওয়া গেল সেটির মৃত্যুর খবর, যা ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য। ইতিমধ্যে সেই বাঘিনির অচেতন অবস্থায় জঙ্গলে পড়ে থাকার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছেসংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে মহারাষ্ট্রের অমরাবতী এবং বর্ধা জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাঘিনিটি। অগস্টের ১৭ তারিখ ৭৭ বছরের এক প্রৌঢ়ের প্রাণ কাড়ে বাঘিনিটি। এর পর অগস্টের
২৭ তারিখ বাঘিনির খপ্পরে পড়ে প্রাণ যায় ৫৫ বছরের এক প্রৌঢ়ের।
তার পর সেপ্টেম্বরের ৬ এবং ৭ তারিখ এক তরুণী এবং চাষির প্রাণ কাড়ে মানুষখেকো বাঘিনি। বন দফতরের আধিকারিক জোরকদমে বাঘিনির তল্লাশি শুরু করেন। বনদফতর এবং মহারাষ্ট্র পুলিশের তরফে গঠিত হয় বিশেষ দল।দিনরাত টহল দিয়ে বাঘিনির খোঁজ শুরু করেন দলের সদস্যেরা। এ কাজে ড্রোনও ব্যবহার করা হয়।শেষে সোমবার সিরাজগাঁও কসবায় বাঘিনির সন্ধান মেলে। বন দফতরের বিশেষ দল সেটিকে ঘুমপাড়ানি ওষুধ দেন। পরিকল্পনা ছিল নাগপুর বন্যপ্রাণী উদ্যানকেন্দ্রে বাঘিনিকে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সিরাজগাঁও থেকে নাগপুর বণ্যপ্রাণী কেন্দ্রের দূরত্ব ছিল প্রায় তিন ঘণ্টা। মাঝে সেটিকে অচেতন অবস্থা থেকে
ফেরানোর প্রয়োজন ছিল। সেই কারণে নিকটবর্তী এক বন্যপ্রাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঘিনির ঘুম ভাঙেনি। সেটির মৃত্যু ঘটে। গ্রামবাসীরা সে খবরে স্বস্তি পেলেও, বাঘিনিটি কেন মারা গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বাঘিনিটির মৃত্যুর
কারণ সম্বন্ধে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।ময়নাতদন্তের পরই সেটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানানো যাবে।ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, জঙ্গলের মাঝে অবচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে বাঘিনি। মাথায় বাঁধা রয়েছে সাদা রঙের প্লাস্টিক। বন দফতরের কর্মীরা এর পর মাটি থেকে সেটিকে তুললেন। চ্যাংদোলা করে খাঁচায় নিয়ে গেলেন। নাগপুর বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে যাওয়ার আগের মুহূর্তের সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
মহারাষ্ট্রে চার জনের হত্যাকারী বাঘিনীর মৃত্যু ঘুমপাড়ানি গুলিতে, গাফিলতির অভিযোগ


