মাঝরাতে জঙ্গলে কাল এসইউভি ছিল ওই গাড়িতেই ছিল পাচারকারীরা

৩৬৫ দিন। ওড়িশার বালেশ্বরের যে জঙ্গল থেকে পাঁচটি ওরাংওটাং পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে রাতে এসেছিল একটি কালো গাড়ি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই গাড়ির সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তা ছাড়া, স্থানীয়েরাও কেউ কেউ গাড়িটি দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। ওই গাড়ির সঙ্গে পাচারচক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়িটির খোঁজ চলছে।ওরাংওটাং অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। ভারতের কোথাও তাদের দেখা যায় না।
মূলত ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার জঙ্গলে ওরাংওটাংয়ের বাস। তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং চোকাশিকারিদের রমরমায় এদের সংখ্যা কমে এসেছে। বোর্নিয়ো ও সুমাত্রার জঙ্গলেই এখন কেবল ওরাংওটাং রয়েছে। সেখান থেকে ওড়িশার জঙ্গলে তারা কী করে এল, প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রাকৃতিক ভাবে এটা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। আকাশপথে বা জলপথে কেউ বা কারা তাদের নিয়ে এসেছে। নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চোরাশিকারের আন্তর্জাতিক কোনও চক্রও থাকতে পারে।বালেশ্বরের ভোগরাই এলাকার বড়াপাই গ্রাম সংলগ্ন এলাকার সিসি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, সোমবার রাত ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ একটি কালো রঙের মাহিন্দ্রা থার এসইউভি জঙ্গলের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল।
১৫ মিনিট পর তা আবার ফিরে যায়। পাঁচটি ওরাংওটাং ওই গাড়িতে ছিল কি না, দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি বিশেষ দল (এসটিএফ) গঠন করেছে বনদফতর।ওরাংওটাংগুলিকে আপাতত ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে। ওড়িশার বনমন্ত্রী গণেশরাম সিংহখুন্তিয়া সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘বন দফতরের সকল চিকিৎসক বিষয়টি দেখছেন। পাশাপাশি আমাদের দফতরের মুখ্য সংরক্ষক (বন্যপ্রাণ) পরিস্থিতি নজরে রেখেছেন। আগামী দিনে দরকার হলে আমরা জাতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শও নেব।’’ওরাংওটাংগুলির বয়স কত, স্পষ্ট ভাবে এখনও তা জানা যায়নি। সেগুলির উচ্চতা এক থেকে দেড় ফুটের মধ্যে।বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এক-একটি ওরাংওটাংয়ের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। বিমানবন্দর, রেলস্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এদেশে তো বটেই, এমনকী কোনও প্রতিবেশী দেশেও এই বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীটির দেখা মেলে না। প্রধানত ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপের রেনফরেস্ট বা গভীর বনের উঁচু গাছে এদের দেখা যায়। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই প্রাণীগুলি তবে এখানেmকোথা থেকে এল!গতকাল, মঙ্গলবার ওড়িশা বন দপ্তরের কর্মীরা ওই ওরাংওটান শাবকগুলিকে উদ্ধার করেন। উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চলে এদের খেলা করতে দেখা যায়। পাঁচটি শাবকের মধ্যে তিনটি পুরুষ ও দু’টি মাদী। বয়স ৬ মাস থেকে একবছরের মধ্যে।ওরাংওটান মূলত তিনটি প্রজাতিতে বিভক্ত;বোর্নিয়ান, সুমাত্রান এবং টাপানুলি। তিনটি প্রজাতিকেই আইইউসিএন অত্যন্ত সংকটাপন্ন বা বিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। অত্যন্ত বুদ্ধিমান এই প্রাণীগুলি সাধারণত দলবদ্ধভাবে থাকে না। বরং তাদের ধীরস্থির ও একাই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। পোষ্য প্রাণী হিসেবে এদের বিপুল চাহিদার কারণে অবৈধ বন্যপ্রাণীর চোরাচালানকারীরা ওরাংওটান পাচার করতে চায়। এর ফলে এদের বিপন্নতা আরও বাড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে ওড়িশায় উদ্ধার ওরাংওটানগুলির এদেশে ঢুকে পড়ার নেপথ্যে কারা, সেটাই খতিয়ে দেখা হবে বলে প্রশাসনিক স্তরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Scroll to Top