৩৬৫ দিন।সব পুজো কমিটিকে বলে দেব, দুর্গা পূজা না লিখে শারোদৎসব লিখলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের একটা স্টলও করতে দেবেন না আজ রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এভাবেই বামপন্থীদের তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মটাকে আপনারা কালচারাল মনে করেন। দুর্গা পূজা বলেন না, শারোদৎসব বলেন। সব পুজো কমিটিকে বলে দেব, দুর্গা পূজা না লিখে শারোদৎসব লিখলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের একটা স্টলও করতে দেবেন না। শারদ উৎসব, শারদ সংখ্যা, এসবের শেষ। আজ রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামপন্থীদের তীব্র আক্রমণ করে বলেন, আপনাদের যে বীজ পুঁতেছেন বাংলায়, এই বীজ তুলে ফেলার সঠিক সময় এটা। তিন মাস যুদ্ধ হয় হবে। গরিবের টাকা মেরে ২৫০০ পার্টি অফিস বানিয়েছেন। গোটা পরিবারকে চাকরি দিয়েছেন। এক একজন সিপিএম নেতার বাড়ির ২০ জন করে লোক চাকরি করেন। সব তালিকা বের করব। যাঁদের অসুবিধা হবে ছেড়ে দিন। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে হোল্টাইমার হয়ে যান। গণশক্তি বিক্রি করুন। ধর্মতলায় কৌটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। প্রসঙ্গত দীর্ঘকাল ধরেই কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত দুর্গাপূজা মণ্ডপের পাশেই বই বিক্রির স্টল দেয় সিপিএম সহ বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দল। দুর্গা পুজো অথবা কোনরকম মূর্তি পূজায় বিশ্বাসী না হওয়া সত্ত্বেও বামপন্থীদের এভাবে দুর্গা পূজাকে ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলায় বামপন্থীদের ইতিহাস বলে, ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজাফফর আহমেদের উদ্যোগে বাংলায় কমিউনিস্টরা প্রথম দুর্গাপুজোর সময় বই-এর স্টল দেওয়া শুরু করে। সেই ট্রাডিশন এখনো চলিতেছে! অন্যদিকে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে শারদোৎসব শব্দটি ব্যবহারের উপরে জোর দিয়েছেন, তারপরেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে কিছুটা ব্যাঙ্গের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোঃ সেলিম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা শারদোৎসব নাটকের বইয়ের কভারের ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘শারদোৎসব’ লেখা যাবে না! পাশাপাশি সিপিএমের রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে লিখেছেন, আপনার চাড্ডিবাহিনী ‘জয় শ্রীরাম’ ভুলে ‘জয় মা দুর্গা’ বলবে তো? আগে সেইটা ঠিক করুন দেখি! আর ৩ মাস কেন? আপনাদের সাথে সারাজীবন ভোর যুদ্ধের জন্য আমরা প্রস্তুত!
দুর্গাপুজো না লিখে শারদোৎসব লিখলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল করতে দেবেন না

