৩৬৫ দিন। রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পাশ হয়ে গেল ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬। বিধানসভায় ভোটাভূটির পরে বিল পাস করে পাঠানো হলো রাজভবন
রাজ্যপালের স্বাক্ষরের জন্য। এই সংশোধনী বিল কার্যকর হলে রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও
অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করার ক্ষমতা পাবে রাজ্য সরকার। বর্তমান ব্যবস্থায় কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন একটি কলেজের
শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির বিধান রয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট কলেজের গভর্নিং বডি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হলেও সেই বদলি করা যায়। প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে সেই পরিধি বাড়িয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলির সুযোগ তৈরি হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ১৪এ ধারায় একটি অতিরিক্ত সংস্থান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করা যাবে। বদলির পর সংশ্লিষ্ট কর্মীর সার্ভিস
সিনিয়রিটি অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে বদলির জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার।তবে আজ শিক্ষক অধ্যাপকদের বদলি সংক্রান্ত বিল পেশ করার পর থেকেই বিধানসভার অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শাসক এবং বিরোধীদের মধ্যে তরজায়। বামপন্থীদের তীব্র আক্রমণ করে আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যা খুশি করবেন নাকি? এটা কি দেশ না রাজ্যের বাইরে? এই জন্যই আপনারা হেরেছেন। সামনের ভোটে
আপনাদের কী অবস্থা গেরুয়া করবে, তা দেখবেন। আপনাদের বিরোধিতায় আমাদের সুবিধাই হচ্ছে। সিপিএম অনিলায়ন করেছিল। আপনাদের দল তিন না চার টুকরো জানি না, মমতায়ণ করেছিল। আমরা সেটা করব না। এক শ্রেণির শিক্ষক বামপন্থী জামা গায়ে লাগিয়ে দেশ, রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাই এই আইনের প্রয়োজন ছিল। এক শ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করেন। যে যার ধর্ম পালন করেন, কেউ বাধা দেয় না।
যাদবপুর প্রসঙ্গে
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তুলে তিনি বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে ১৩০০ কোটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হবে। কিষেণজির নাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখতে দেব না। বেছে বেছে গেরুয়াধারীদের তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপকরা টার্গেট করেছেন, এটা চলবে না। ভারত
তেরে টুকড়ে হোঙ্গে লিখলে, আমরাই টুকরো করে দেব।
চাকরি ছেড়ে ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান
নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত পণ্ডিতদের পাঠাব। প্রতিষ্ঠিত ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর অধ্যাপক-শিক্ষাকর্মী আছেন, তাঁদের অন্যত্র
পাঠানো হবে। অন্যান্য রাজ্যেও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির সংস্থান রয়েছে। কোন লাইনে যাচ্ছি, বোঝা যেতেই বিল নিয়ে চিড়বিড় করা শুরু
হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভায় আইন প্রণয়নের নিজস্ব শিক্ষা আইন আনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। সরকারের আইনের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের
আইনের উপরে। বদলি চাকরির অন্তর্নিহিত শর্ত, অসুবিধা হলে চাকরি ছেড়ে দিন, ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের
স্বায়ত্তশাসন রক্ষা হবে, পাশাপাশি সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে।
‘চাকরি করতে ইচ্ছে না হলে কাঁধে ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান’
বদলি প্রসঙ্গে বামপন্থী শিক্ষক, অধ্যাপকদের তীব্র ব্যঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর


