৩৬৫ দিন। এক সময় চন্দননগরের নাম ছিল ‘ফরাসডাঙা’। ব্রিটিশদের মৌরসীপাট্টার আগে হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ের মফঃস্বল শহরে কিন্তু দাপট ছিল ইউরোপের অন্য বড় শক্তিধর দেশ গুলোর। যেমন শ্রীরামপুরে ডেনিসদের, চুঁচুড়ায় ওলন্দাজদের আবার ব্যান্ডেলে পর্তুগিজদের, তেমন-ই চন্দননগরে ছিল ফরাসীদের ঘাঁটি। সে সময় ফরাসীরা তাদের মনের মত করে ফরাসডাঙাকে সাজাতে চেয়েছিলেন খানিকটা সাজিয়েওছিলেন। কালের নিয়মে সে সবের বেশীরভাগটাই ভেঙে চুরে নষ্ট হয়েছে যেটুকু আছে তাকে নতুন রূপ দিয়ে এবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চন্দননগরে ফরাসী উৎসব হচ্ছে। শুক্রবার অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর উৎসবের উদ্বোধন চলবে রবিবার,১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উৎসবের উদ্বোধন করবেন রাজ্যের পযটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। ফ্রান্সের তরফে একাধিক প্রতিনিধির থাকার কথা রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। হুগলি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, চন্দননগর স্ট্যান্ডের কাছে ফরাসীদের তৈরী একটি রেজিস্ট্রি অফিস বহু কাল ধরে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পড়ে ছিল। আগের সরকারের আমলে ওই ভবন সংস্কারের জন্য মউ হলেও কাজ তেমন এগোয়নি। এবার ওই ভবনকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে ফরাসীদের স্মৃতি চিহ্ন হিসাবে। সেই উপলক্ষ্যে পুরোদস্তুর উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। নাম রাখা হয়েছে ‘ফরাসী উৎসব’। মেলা উপলক্ষ্যে চন্দরনগরের গঙ্গাপাড়ের স্ট্যান্ড সেজে উঠছে। আলোকসজ্জার কাজ প্রায় শেষ। এ ছাড়া উৎসবে থাকছে নানা রকম বিপণী, খাবারের স্টল। গঙ্গাবক্ষে হবে সন্ধ্যারতি। আলোচনা সভা, সাহিত্য চর্চা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের-ও পরিকল্পনা রয়েছে। সামনেই দুর্গাপুজো, তার আগে ফরাসী উৎসব দিয়ে শারদোৎসব শুরু হয়ে গেল, বলছেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। রাজ্যের পর্যটন দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের পর্যটন সার্কিটে চন্দননগরকে তুলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই ফ্রান্সকে সামনে রেখে গোটা বিষয়টি সাজানো হচ্ছে। ফ্রান্সের খাবার, সেখানকার সংস্কৃতি তুলে ধরাই হল উদ্দেশ্য।
গঙ্গাপাড়ে ফরাসী টাচ! দুর্গাপুজোর আগে চন্দননগরে ফরাসী উৎসব


