৩৬৫ দিন। ‘টাইগার সাফারি চালু হলে পর্যটনের হাত ধরে আর্থিক সমৃদ্ধি আসবে ঝাড়গ্রামে’। বুধবার ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারির জন্য জায়গা পরিদর্শনে এসে বললেন রাজ্যের বন মন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। রাজ্যের পালাবদলের পর এটাই মন্ত্রীর প্রথম ঝাড়গ্রাম পারিদর্শনে আসা। এদিন প্রথমে মন্ত্রী জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে পারিদর্শনে যান। সেখানের পরিকাঠামো ক্ষতিয়ে দেখেন তিনি। পার্কের উল্টো দিকের ২৬২ একর শাল জঙ্গলের মধ্যে টাইগার সাফারি গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছিল রাজ্য বাজেটে। টাইগার সাফারি গড়ে তোলার জঙ্গলটিও পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম টাইগার সাফারির গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারাপর জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কের বিশেষ গাড়িতে করে পুরো পার্ক ঘুরে দেখেন।
রাজ্যের বন বিভাগের মন্ত্রী জঙ্গলমহলে হাতির সমস্যা নিয়ে বলেন এই সমস্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা, কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কথা বলে ধীরে ধীরে হাতির সমস্যার সমাধান করার জন্য রাজ্যের বন বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জঙ্গলমহলে ২০০টিরও বেশি হাতি রয়েছে।, সেই হাতির হামলায় প্রতিদিন ফসলের ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হচ্ছে, যাদের ফসল ঘরবাড়ি হাতির দল ক্ষতি করছে তারা যাতে সঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ পায় সে ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।
তিনি আরো বলেন যে সদ্য রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে একটু সময় লাগবে, শুধু ঝাড়গ্রাম বাঁকুড়া পুরুলিয়া পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় হাতির সমস্যা নয় ডুয়ার্স এলাকায়ও হাতি নিয়ে সমস্যা রয়েছে । সেই সঙ্গে তিনি বলেন রাজ্যের নতুন সরকার জঙ্গলমহলের উন্নয়নের দায়বদ্ধ, তাই ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য টাইগার সাফারি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, আগামী ১ থেকে দেড় বছরের মধ্যে ঝাড়্গ্রাম এ টাইগার সাফারি চালু হয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।। এর ফলে পর্যটন মানচিত্রে ঝাড়গ্রাম জেলা, আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে।বুধবার ।মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন,রাজ্যের কৃষি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ, বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু ছাড়াও বন দপ্তরের আধিকারিকরা। টাইগার সাফারির জায়গা পরিদর্শনের পর ঝাড়গ্রামের জেলা শাসকের কার্যলয়ে একটি বৈঠকে যোগদেন মন্ত্রী। ওই বৈঠকে জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকদের পাশাপাশি মন্ত্রী ও বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন মন্ত্রী বিধায়ক সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।


