মোহনবাগানের ৫ গোল, সুপার সিক্স যাত্রায় কোল ইন্ডিয়ার বিপক্ষে কামব্যাক সাহালদের

মোহনবাগান – ৫
কোল ইন্ডিয়া – ১

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। এইতো কদিন আগের ঘটনা। ব্র্যান্ড কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলর কাছে চার গোল হজম। আকাশ থেকে সোজা মাটিতে নামিয়ে ছিল মোহনবাগানকে। তারপর কলকাতা লিগের ডার্বিতে চেষ্টা করেও ইস্টবেঙ্গলের রিজার্ভ দলের বিরুদ্ধে জয় আসেনি।
ইস্টবেঙ্গলের ছোটদের কাছে আটকে গিয়েছিল মোহনবাগান। সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে ঘিরে। তবে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে দুরন্ত কামব্যাক করল মোহনবাগান। সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচেই কোল ইন্ডিয়াকে ৫-১ গোলে হারাল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। গ্রুপ স্তরে ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যাঁরা গোল করতে হিমসিম খেয়েছিলেন, সেই সাহাল-কিয়ানরাই দাপট দেখালেন কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। গ্রুপ বি-র শীর্ষে থেকে সুপার সিক্সে উঠেছিল কোল ইন্ডিয়া। তবে কলকাতা লিগ জিততে মরিয়া মোহনবাগানও। তাই কোনও ঝুঁকি নেয়নি তারা। বৃহস্পতিবারও প্রথম একাদশে ছিলেন সিনিয়র দলের সাত ফুটবলার— রাহুল ভেকে, মনবীর সিং, শুভাশিস বসু, কিয়ান নাসিরি, সাহাল আব্দুল সামাদ, দীপক টাংরি, লিস্টন কোলাসো। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ শানাতে থাকে মোহনবাগান। বারবার বিক্ষিপ্ত চেষ্টা করেও গোল আসছিল না। তবে ডেডলক ভাঙে ২১ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে সাহালের বাড়ানো বল ধরে গোলকিপারকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়ান মনবীর। ৩০ মিনিটে লিস্টনকে তুলে টেকচামকে নামান মোহনবাগানের কোচ বাস্তব রায়। এর পরেই ঘোরে ম্যাচের মোড়।৩৩ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢোকেন সাহাল। বাঁ পায়ের জোরালো শটে দারুণ গোল করেন তিনি। দু’মিনিট পরেই আসে তৃতীয় গোল। ম্যাচের অন্যতম সেরা গোল ছিল এটাই। বাঁ প্রান্ত থেকে সাহালের সেন্টার রাখেন। বক্সের ভিতরে ডান দিকে তা হেডে নামান কিয়ান। তাঁর বাড়ানো বল থেকে সাইড ভলিতে দারুণ ফিনিশ করেন সন্দীপ মালিক। ৩৭ মিনিটে ফের ব্যবধান বাড়ান কিয়ান নাসিরি। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে আসে পঞ্চম গোল। ৪২ মিনিটের মাথায় দীপক বাকথান নিজেদের বক্সে ফাউল করে বসেন মনবীরকে। পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৫-০ গোলে।তবে দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগানের খেলায় সেই ধার ছিল না। ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। মিসপাসের ছড়াছড়ি ছিল। গোটা ম্যাচে ভরসা পাওয়া যায়নি শুভাশিসকে দেখে। ৫৪ মিনিটের মাথায় রবিলাল মান্ডির জায়গায় মাঠে নামেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তত দু’টি গোলের সুযোগ মিস করেন তিনি। মনবীর নিশ্চিত হ্যাটট্রিক হাতছাড়া করেন। ৭০ মিনিটের মাথায় জোড়া পরিবর্তন করে মোহনবাগান। মনবীরের জায়গায় মাঠে নামেন সুহেল আহমদ ভাট। কিয়ান নাসিরকে তুলে নামানো হয় সাহাজিদ গাজিকে।৭৪ মিনিটে ব্যবধান কমায় কোল ইন্ডিয়া। নিজেদের বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হাতে লাগান মোহনবাগানের ডিফেন্ডার রাজ বাসফোর। পেনাল্টি পায় কোল। স্পটকিক থেকে গোল করেন পরিবর্ত হিসেবে নামা ইরফান সর্দার। খেলা শেষের ঠিক আগে অযথা ঝামেলায় জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন দীপক টাংরি। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান।
গ্রুপ বি-র শীর্ষে থেকে সুপার সিক্সে জায়গা করে নিয়েছিল কোল ইন্ডিয়া। কিন্তু একাধিক ফুটবলারকে ছেড়ে পূর্ণশক্তির দল নামাতে পারেনি তারা। তবে খেতাবি দৌড়ে বড় ভূমিকা নেবে গোল পার্থক্য। তাই পাঁচ গোলে জয় মোহনবাগানকে এগিয়ে রাখল। তবে সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে সাত গোল হতেই পারত মোহনবাগানের পক্ষে। এটা নিয়ে অবশ্য উন্নতি করা প্রয়োজন আছে বললেন বাস্তব রায়। বাস্তব বলছেন গোল নষ্ট করা ভালো লক্ষণ নয়। তবে ফুটবলে সব সুযোগ তো গোল হয় না। কিন্তু বক্সের মধ্যে মোহনবাগানের ফিনিশিং আরও নিখুঁত করতে হবে সে ব্যাপারে সহমত বাগানের বাঙালি কোচ। তাকে নিজেকে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি বিগত কয়েকদিন। এটা নিয়ে অবশ্যই চিন্তিত নন বাস্তব। তিনি বলেছেন নিজের কাজ করে যাচ্ছেন। শেষ দিন পর্যন্ত চেষ্টা করবেন মোহনবাগানকে কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন করার। মোহনবাগানের মতো ক্লাবের দায়িত্বে থাকলে সমালোচনা গালাগালি খেতে হবেই। এটা মেনে নিয়েই কোচিং করতে এসেছেন। তার গালাগালি খেতে আপত্তি নেই। দল ভালো খেললে, জিতলে এবং চ্যাম্পিয়ন হলে এসব মানুষ ভুলে যাবে।

Scroll to Top