৩৬৫ দিন। সুমন আদক। উৎসবের মরশুমে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে শপিং মলগুলিতে। আর সেই ভিড়ের মধ্যে আচমকা আগুন লাগলে কত দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব ? বিপদের সময়ে মলের ভিতরে থাকা সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের নিরাপদে বের করে আনার মতো পরিকাঠামো আদৌ প্রস্তুত কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার বেলুড়ের রঙ্গোলি মলে বিশেষ অগ্নি-নিরাপত্তা পরীক্ষা চালাল বালি দমকল বিভাগ। রাজ্য দমকল দপ্তরের নির্দেশে শপিং মল, হোটেল, রেস্তোরাঁ-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের যে অভিযান শুরু হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এদিন রঙ্গোলি মলে যায় দমকলের দল। বালি ফায়ার স্টেশনের অফিসার সোমনাথ প্রামাণিকের নেতৃত্বে আধিকারিকরা মলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখেন।
শুধু অগ্নি-নির্বাপণ যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা দেখেই থেমে থাকেননি দমকল আধিকারিকরা। আগুন লাগার পর বাস্তবে সেগুলি কতটা কার্যকর হবে তারও পরীক্ষা করা হয়। ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ইমার্জেন্সি এক্সিট, স্প্রিংকলার সিস্টেম-সহ বিভিন্ন অগ্নি-নির্বাপণ পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। মলের বেসমেন্টে গিয়ে পরীক্ষা করা হয় পাম্প, অল্টারনেটিভ পাওয়ার সাপ্লাই, গ্যাস ব্যাংক, গ্যাস সেন্সর এবং মডিউলার সিস্টেমও। দমকল সূত্রের খবর, প্রায় ২০ মিনিট ধরে পাম্প চালিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি তিন দফায় স্প্রিংকলার সিস্টেমও পরীক্ষা করা হয়। পরিদর্শনে ওই ব্যবস্থাগুলি সঠিকভাবেই কাজ করেছে বলে দাবি দমকলের। মলের মূল ভবন থেকে নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গ্যাস ব্যাংক রাখা হয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। এদিনের পরিদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জরুরি পরিস্থিতিতে মল খালি করার ব্যবস্থা। আচমকা আগুন লাগলে কোথা দিয়ে ক্রেতা ও কর্মীরা বেরিয়ে যাবেন, কত দ্রুত তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরানো সম্ভব এবং জরুরি নির্গমনপথ যথাযথ রয়েছে কিনা—সেই বিষয়গুলিও সরোজমিনে পরীক্ষা করেন দমকল আধিকারিকরা।
পরিদর্শন শেষে মল কর্তৃপক্ষকে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যায়ে মলের অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পরীক্ষা করা হবে বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে। বালি দমকলের ওসি সোমনাথ প্রামাণিক বলেন, “রাজ্য দমকল দপ্তরের নির্দেশে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বড় শপিং মলগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে রঙ্গোলি মলে পরিদর্শন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি বা অসুবিধা নজরে আসেনি।” উৎসবের মরশুমে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে মানুষের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়েও বাড়ছে প্রশাসনের নজরদারি। বিপদের মুহূর্তে শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণ করাই নয়, মলের ভিতরে থাকা কয়েকশো মানুষকে দ্রুত এবং নিরাপদে বের করে আনাই যে বড় চ্যালেঞ্জ, রঙ্গোলি মলের এদিনের পরিদর্শনে সেই দিকটিই বিশেষ গুরুত্ব পেল।
পুজোর আগে বেলুড়ের রঙ্গোলি মলে দমকলের অগ্নি-নিরাপত্তা পরীক্ষা


