অগ্নি নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি শিবপুরের আভানি মলে
ছ’তলা জুড়ে দমকলের বিশেষ পরিদর্শন, খতিয়ে দেখা হল অগ্নিনিরাপত্তার খুঁটিনাটি

৩৬৫ দিন।সুমন আদক।সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনবহুল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহেই এবার হাওড়ায় অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় আরও তৎপর প্রশাসন। বুধবার শিবপুরের অন্যতম ব্যস্ত আভানি মলে বিশেষ পরিদর্শনে গেল হাওড়া দমকল বিভাগ। মলের ছ’টি তল ঘুরে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকাঠামো সরেজমিনে পরীক্ষা করেন দমকল আধিকারিকরা।পরিদর্শনে মূলত দেখা হয় মলের স্প্রিংকলার ব্যবস্থা, স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, জল সরবরাহের পরিকাঠামো, পাম্প এবং ছাদের জলের ট্যাঙ্ক। আগুন লাগলে যাতে দ্রুত মলের ভিতরে থাকা সাধারণ মানুষকে নিরাপদে বের করে আনা যায়, সেজন্য বিভিন্ন এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টও খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারের ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে দমকল সূত্রে খবর। হাওড়া ফায়ার স্টেশনের অফিসার অরিজিৎ দাস জানান, মলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিকাঠামো পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরিদর্শনে কোনও ঘাটতি ধরা পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী মল কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, প্রাথমিকভাবে আভানি মলের ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা নির্ধারিত গাইডলাইন মেনেই রয়েছে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রয়োজনীয় জলের প্রেসারও যথেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে জরুরি বহির্গমনের পথগুলিও সঠিক অবস্থায় রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে, মল কর্তৃপক্ষের তরফেও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। অপারেশনস ম্যানেজার বিশ্বরূপ ব্যানার্জি জানান, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনওরকম আপোস করা হয় না। মলে পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশারের পাশাপাশি সেফটি অফিসার ও ফায়ার কনসালট্যান্ট রয়েছেন। নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা পরিকাঠামো পরীক্ষা করার পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ইভাকুয়েশন ড্রিলও করা হয়। মল কর্তৃপক্ষের দাবি, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে রিজার্ভার ও পাম্প অটো মোডে রাখা হয়েছে। আগুন লাগলে দমকলের কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায়, সেই ব্যবস্থাও নজরে রাখা হয়।
পাশাপাশি মলের এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট যাতে কোনওভাবেই বাধাপ্রাপ্ত না হয়, সেদিকেও নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে তারাপীঠ, কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর জনবহুল জায়গাগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শপিং মল, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখতেই এই ধরনের পরিদর্শন চালানো হচ্ছে। ফলে বুধবারের আভানি মল পরিদর্শনকে শুধুমাত্র রুটিন পরিদর্শন হিসেবে দেখছে না প্রশাসন। জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে এবং কোনও বিপর্যয় ঘটলে যাতে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সেই লক্ষ্যেই হাওড়ায় দমকলের এই বাড়তি তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।

Scroll to Top