জমা জল নামাতে পথে দমকল! হাওড়ায় নজিরবিহীন উদ্যোগ

৩৬৫ দিন।সুমন আদক। এবার শহরের জমা জল সরাতে পথে নামল দমকল। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও হাওড়ার নিচু এলাকাগুলিতে জমে থাকা জল নামাতে দমকলের ইঞ্জিন ও সাকশন মেশিন ব্যবহার করল হাওড়া পুরসভা। বুধবার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের ধাড়াপাড়া এলাকায় দেখা গেল এমনই নজিরবিহীন ছবি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টি থামার পরও দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তায় জমে রয়েছে নোংরা জল। সেই জল পেরিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। স্থানীয় নিকাশি নালাগুলিতেও জল জমে থাকায় সাধারণ পাম্পের সাহায্যে দ্রুত জল বের করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষপর্যন্ত দমকলের সাহায্য নেওয়া হয়। বুধবার দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এনে সাকশন মেশিনের মাধ্যমে জমা জল তুলে ট্যাঙ্কে ভরা হয়। পরে সেই জল অন্যত্র ফেলে দেওয়া হয়। দিনভর এই প্রক্রিয়া চলে বলে জানা গিয়েছে।
হাওড়ার জলমগ্ন এলাকায় জমা জল সরানোর কাজে এর আগে দমকলকে এভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। ফলে পুরসভার এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। দমকল সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, তাদের পরিষেবা শুধুমাত্র আগুন নেভানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও ‘ফায়ার অ্যান্ড এমার্জেন্সি সার্ভিস’-এর অন্যতম দায়িত্ব। সেই কারণেই প্রয়োজন অনুযায়ী জল নিষ্কাশনের কাজেও দমকলের পরিকাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। এদিন ধাড়াপাড়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, অতীতে হাওড়ার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কাজ হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের একাধিক নিচু এলাকায় জল জমে দুর্ভোগ বাড়ছে। আগামী দিনে হাওড়ার জলযন্ত্রণা কমাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে, এই মুহূর্তে ধাড়াপাড়ার বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি—জল নামানোর কাজে এবার দেখা গেল দমকলকেও। আগুনের লেলিহান শিখার বদলে জলমগ্ন রাস্তা থেকে জল সরাতে দমকলের এই ভূমিকাই এদিন হাওড়ার অন্যতম ব্যতিক্রমী ছবি হয়ে উঠেছে।

Scroll to Top