ড্রাগ তৈরি ও পাচারের অভিযোগে
মিশরের জনপ্রিয় টিভি তারকা,উপস্থাপক সারাহ খলিফার মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ্যে ফাঁসির নির্দেশ!

৩৬৫ দিন।সৌগত সরকার। মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচার মামলায় মিসরের আদালত দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন স্টার এবং   টেলিভিশনের সফল উপস্থাপক সারাহ খলিফা সহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই সংবাদ পরিবেশন।মিসরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণসহ কয়েক ধরনের অপরাধ এবং মাদক পাচারের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। ৩৯ বছরের সারাহ খলিফা, মিশরের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের হয়ে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো। এটি মূলত একটি লাইভ অনুষ্ঠান ছিল।
মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরাম জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ এবং সেগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা ও বহন করার অভিযোগে খলিফা একবছর আগে গ্রেফতার হয়েছিল। দেশ থেকে পালিয়ে যান ,কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তিনি লিবিয়ায় ধরা পড়ে যান। একবছর তার বিচার চলেছে। এদিন  কায়রোর একটি আদালত খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন।রায় ঘোষণার আগে আদালত মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে ধর্মীয় মতামত জানতে চেয়েছিল। সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রশাসনও একই রায় দিয়েছে।  মৃত্যুদণ্ডের মামলায় মিসরের আইনে এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। যদিও যেভাবে তিনি প্রথম তিনমাস অভিযোগ অস্বীকার করেন,এবং ধর্মীয় সব রকম শপথ নিয়েও প্রাণে বাঁচতে বারবার  মিথ্যে বলে যান। তাতে আদালত আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। পরে তার প্রেমিক সহ বাকি সঙ্গীরা ধরা পড়লে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন। সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিকও রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি এমন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক, যা বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রীয় পুলিশের অভিযোগ, আসামিদের বিরুদ্ধে পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক তৈরি করা এবং বিদেশ থেকে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি করার প্রমাণ তারা হাতেনাতে পেয়েছে। গোটা আফ্রিকা জুড়ে বিভিন্ন পার্টি ও ইভেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি তারা এই সিন্থেটিক ড্রাগ শুধু পার্টিতেই নয়,ড্রাগ পেডলার এমনকি নাবালকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিত। তাদের থেকে ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে। এ ছাড়া, মাদক তৈরির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।অন্য একটি মামলায় আদালত সারাহ ও অন্য আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ ছিল।মিসরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মিসরে মোট ৫৪১ জনকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার সারাহ কীভাবে মামলা লড়েন । তার পক্ষে দাঁড়ানো তিনজন উকিল ইতোমধ্যেই সরে গিয়েছে মামলা থেকে। মনে করা হচ্ছে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবেই।

Scroll to Top