৩৬৫ দিন। মিশরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রাচীন ফারাও যুগ থেকে শুরু করে আধুনিক আমল পর্যন্ত অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে বিভিন্ন কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১. মোহাম্মদ মোরসি
মিশরের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মোরসি-কেও ২০১৫ সালে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, তবে পরবর্তীতে উচ্চ আদালত তা বাতিল করে এবং ২০১৯ সালে আদালতের এজলাসেই বিচার চলাকালীন অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়।
২. সাইয়িদ কুতুব
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামিক চিন্তাবিদ, লেখক এবং রাজনৈতিক দল ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর প্রধান তাত্ত্বিক নেতা। তৎকালীন মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরের সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র এবং প্রেসিডেন্টকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। ১৯৬৫সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।১৯৬৬ সালের আগস্ট মাসে কায়রোর একটি কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।২০১৩ সালে মিশরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, দেশটির নতুন সামরিক সমর্থিত সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে। মোট ৪৪ জনের ফাঁসির সাজা হয়।
৩. খালেদ আল-ইসলামবুলি
মিশরের এই সামরিক কর্মকর্তা ১৯৮১ সালে একটি সামরিক কুচকাওয়াজ চলাকালীন তৎকালীন মিশরীয় রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। এমনটাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আন হয়। যদিও তিনি এটি অস্বীকার করেন। প্রমাণও পাওয়া যায় নি। ১৯৮২ সালে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
৩. সিজারিয়ন
তিনি ছিলেন মিশরের বিখ্যাত রানী ক্লিওপেট্রা এবং রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের পুত্র। ক্লিওপেট্রার আত্মহত্যার পর খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দে রোমান সম্রাট অক্টাভিয়ানের (অগাস্টাস) নির্দেশে মাত্র ১৭ বছর বয়সে এই তরুণ ফারাওকে বন্দি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।




