অভিষেককে বিরুদ্ধে বার বার এফ আই আর নিয়ে
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের মন্তব্য ‘এনাফ ইজ এনাফ’

৩৬৫ দিন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় এবার বিরক্ত কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার সেবাশ্রয়ে দুর্নীতি নিয়ে রক্ষাকবচ মামলায় এই পর্যবেক্ষণ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। মামলা শুনতে শুনতেই তিনি  বলেন  এনাফ ইজ এনাফ। গত কয়েক মাসে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এতগুলি মামলা হয়েছে। তাই আদালত বিরক্ত। তিনি জানিয়ে দেন, এরকমভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে কঠোর নির্দেশ দিতে বাধ্য হবে আদালত। এই ঘটনায় পুরোনো একটি মামলার উদাহরণ টানেন বিচারপতি। আদালত এদিন তার রায়ে  জানিয়ে দেয় সেবাশ্রয় মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।
কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ঝুলে রয়েছে। তার মধ্যে সেবাশ্রয় নিয়েই একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ নিয়ম না মেনে ডায়মন্ড হারবারে দু’বার সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক। এই ঘটনায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির ২  বারের পরাজিত প্রার্থী  অভিজিৎ দাস (ববি)।এর পরেই  অভিযোগ দায়ের হওয়া মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। সোমবার সেই মামলারই  শুনানি ছিল হাই কোর্টের সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। আদালত রায় দেয় এই মামলায় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের  রক্ষাকবচ থাকবে । তবে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন পড়লে ৪৮ ঘণ্টা আগে অভিষেককে নোটিস দিতে পারে পুলিশ। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। অভিষেক ফিরলে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি। দেশে ফিরলে তারপরই  তাঁকে তলব করতে পারবে পুলিশ।
বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ প্রার্থীর করা অভিযোগ ও তার সত্যতা কতটা গ্রহণ যোগ্য । মামলাকারী অভিজিৎ দাসকে কটাক্ষ করে বিচারপতি জানান, অভিষেকের কাছে ভোটে দু’বার পরাজিত হওয়া ব্যক্তি এই মামলা করেছেন। তাই অভিযোগের সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বিচারপতি । বিচারপতির এক প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের তরফে যেই বলা  বলা হয় যে  এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন লাগানোর জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই সব ক্ষেত্রে  সেই অনুমতি নেননি তারপরেই  বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, এনাফ ইজ এনাফ। বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন এসব চলতে থাকলে  ( অভিষেকের ) গ্রেফতারিতে কার্পেট  ব্যান করবে আদালত ও    আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও এফআইআর করা যাবে না।

Scroll to Top