নবমীতে কচি পাঁঠার মাংস খাই, অষ্টমীর দিন লুচি খাই, সেটাই খাব: শমীক ভট্টাচার্য

৩৬৫ দিন। দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে সম্প্রতি নানা মন্তব্য হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে একটি অনুষ্ঠানে এসে বাগেশ্বর বাবা পুজোর সময়ে নিরামিষ খাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই আবহেই মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা কে কী খাবেন, কে কী পরবেন, তা নিয়ে বিজেপির তরফে আলাদা করে কোনও বক্তব্য নেই বলে জানিয়ে দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এদিন বলেন, “আমরা সাধারণত নবমীর দিন পাঁঠার মাংস খাই। অষ্টমীর দিন লুচি খাই। সেটাই খাবো। বাংলার মানুষকে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কিছু বলার নেই। যার যা খেতে ইচ্ছে করবে খাবেন। বাঙালি মাছ-মাংস খাবে না, এটা হয় নাকি।’ একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “বাঘেশ্বর বাবা অন্ন দুনিয়ার মানুষ। দেশে উনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। আমি ওনাকে দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাঘেশ্বর বাবা বলতে পারেন না, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পুজোর সময় কী খাবেন আর কী খাবেন না। কে কি পড়বে তা নিয়ে বিজেপির কোন বক্তব্য নেই।” শমীকের কথায়, “কাউকে নিরামিষাসী হওয়ার উপদেশ দেওয়ার মধ্যে কোন অন্যায় বা পাপ নেই। চিকিৎসকেরাও এই উপদেশ দেন আজকাল। বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না? এটা হতে পারে না।”
প্রসঙ্গত হাওড়া একটি অনুষ্ঠানে এসে বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, “যারা দুর্গাপূজোর সময় আমিষ খান তারা পাষন্ড। পুজো প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা খাবার খাওয়া হয়, সেগুলি খাওয়া উচিত নয়।”এই বিষয়টি সমর্থন করেন না রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাঙালি যে সংস্কৃতি ও অভ্যাসে অভ্যস্ত সেই অনুযায়ীই চলবে। তাঁর মতে, কে মাছ-মাংস খাবেন, কে নিরামিষ খাবেন—এটি ব্যক্তিগত পছন্দ-অছন্দের ব্যাপার। কাউকে কী খেতে হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া বিজেপির দলগত অবস্থান নয়। বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলতেই তাঁর মত, ‘একজন সাধক হিসেবে তিনি তাঁর মতামত বা পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত বাঙালির নিজস্ব বিষয়।’

বিজেপি ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ কর্মসূচি করবে। তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা, তাঁর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। ওই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে কী কী পরিবর্তন এসেছে, সেটাও মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের চারুকলা কলেজগুলিকেও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী প্রতিভাকে উৎসাহিত করতে কলকাতা-সহ পাঁচটি শহরে সায়েন্স কংগ্রেস আয়োজন করা হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। শিশুদের জন্য বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
সেবা জ্যোতি যাত্রা
এবার সেবা জ্যোতি যাত্রা হবে মন্ডলে মণ্ডলে। ২৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানুষের সেবায় নরেন্দ্র মোদী কি কি করেছেন সেগুলি নিয়ে প্রচার চালানো হবে। সেবা সংকল্প নিয়ে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জেলায় জেলায় সাংবাদিক সম্মেলন করবেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন
১৭ ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘায়ু কামনা করবেন শমীক ভট্টাচার্য। প্রত্যেক বুথে যাতে 25 টি করে প্রদীপ জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয় সেদিকে নজর রাখা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আবেদন
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনের জন্য কর্মসূচি নেওয়ার। জেনজিদের আলাদা করে কেন দেখা হবে। তাদের মনের কথা শুনতে হবে। তাদের মতো করে চিন্তা করতে হবে।

Scroll to Top