কাজে গিয়ে ওড়িশায় নিখোঁজ যুবক,পরিবারকে ফোন করে মুক্তিপন এর হুমকি।মেদিনীপুর থেকে পুলিশ উদ্ধার করল অপহৃতকে, গ্রেফতার 2

৩৬৫দিন। নদীয়া।অশোক কুমার মণ্ডল। কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওড়িশায় গিয়ে অপহরণের শিকার হলেন এক যুবক। অপহরণকারীরা তাঁকে আটকে রেখে পরিবারকে ফোন করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে  অঙ্গ পাচারের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত শান্তিপুর থানার পুলিশের তৎপরতায় অপহৃত যুবককে নিরাপদে  উদ্ধার, গ্রেফতার দুই।ধৃত দুই যুবকের নাম শেখ সাহিল, ও রবিউল গায়েন। ধৃতরা প্রত্যেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের নৃসিংহ পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দিরা আবাসন  এলাকার বাসিন্দা বিজয় কৃষ্ণ বালা নামে এক যুবক গত পরশু কাজের খোঁজে হাওড়া হয়ে ওড়িশার কটকে যান। কটকে পৌঁছানোর পর আচমকাই সে নিখোঁজ হয়ে যান ।
অপহৃতের কাকা অসীম বালা বলেন, পরদিন সকালে তাঁদের ফোনে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে ফোন আসে। সেখানে জানানো হয় বিজয় কৃষ্ণকে তারা আটকে রেখেছে। যুবককে ছাড়ানোর জন্য ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করে দুষ্কৃতীরা। এমনকি টাকা না দিলে অপহৃতের অঙ্গ বিক্রি করে দেওয়ার  হুমকি দেওয়া হতে থাকে বলে অভিযোগ ।পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে অপহৃতের পরিবার  শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হন। থানার অফিসার-ইন-চার্জ  ঘটনাটি শোনামাত্রই তৎপরতার সঙ্গে আইনি ও কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।জানা গেছে, দুষ্কৃতীরা অপহৃত যুবককে ওড়িশা থেকে গাড়িতে করে মেদিনীপুরের দিকে নিয়ে আসছিল।তৎক্ষণাৎ মেদিনীপুর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে শান্তিপুর থানার পুলিশের  যৌথ সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও অভিযানের ফলে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে শান্তিপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।ধৃতদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে চেয়ে রানাঘাট আদালতে পেশ করে শান্তিপুর থানার পুলিশ।অপহৃতের কাকা অসীম বালা বলেন, এর পেছনে কোনো বড় চক্র জড়িয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। তবে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাঁর ভাইকে উদ্ধার করার জন্য তিনি শান্তিপুর থানা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।তবে পুলিশ সূত্রে খবর ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এর পেছনে আর কে বা করা জড়িত আছে তা জানা যাবে।শুধুই কি অপহরণ করে মুক্তিপন চাওয়া,নাকি অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল তারও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Scroll to Top