বিশ্বভারতীতে উপাচার্যের ভবন সংস্কারে দুর্নীতি

৩৬৫ দিন।বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিতর্ক ও দুর্নীতি একেবারে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে বিগত ১০ বছর ধরে। এবার বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বাসভবন ” পূর্বিতা ” সংস্কারের খরচা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে বিতর্ক। ইতিমধ্যে খরচার বহর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী কে অভিযোগ করেছেন তপশিলি জাতি উপজাতি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জাতীয় সংখ্যালঘু যৌথ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বৈদ্যনাথ সাহা। উপাচার্যের বাসভবনের সংস্কারের খরচের খবর প্রকাশ হতেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বিশ্বভারতীতে পাঠরত পড়ুয়াদের মধ্যে। অভিযোগকারী বৈদ্যনাথ সাহা বলেন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিন্দু অর্থ সংগ্রহ করে এই শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলেছেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পেছনে যে ঘাম রক্ত রাত দিন এক করে গুরুদেব ব্যয় করেছিলেন পা ধুলোয় মিশাচ্ছে এই বিলাসিতায়।
শিক্ষার মান উন্নয়নে খরচ না-করে উপাচার্যের বাসভবন সংস্কারের এত কোটি টাকা খরচ ৷ এ তো অভাবনীয় ! এই টাকা বিশ্বভারতীর হিতে কত কি-ই না করা যেত ৷ তাই আমরা সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করেছি ৷ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দীর্ঘদিন ধরে ভূরি ভূরি অভিযোগ । যেমন – ছাত্রাবাস ও ছাত্রী নিবাসগুলির পরিস্থিতি বেহাল, পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, নেই সঠিক নিকাশি ব্যবস্থা, ক্যান্টিনগুলিতে খাবারের মান নিম্ন, স্যানিটেশন, আলোচনা সভা, কর্মশালা, গবেষণা, গ্রন্থাগারের পরিকাঠামো, সমগ্র ক্যাম্পাসে নেই ফ্রি ওয়াইফাই- ইত্যাদি একাধিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সেগুলিকে কর্তপক্ষ গুরুত্ব না-দিয়ে শুধুমাত্র উপাচার্যের বাসভবন সংস্কারে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা নিয়ে সরব হয়েছেন অনেকেই ৷
এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌভিক দাস বক্সী বলেন, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে এই কেন্দ্রীয় সরকার নিজের জমিদারি ভেবে নিয়েছে ৷ যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল, ল্যাব, লাইব্রেরি থেকে রাস্তা, হসপিটাল, শিক্ষার পরিকাঠামো সমস্ত ভেঙে পড়েছে, সেখানে বর্তমান উপাচার্য নিজের বিলাসিতার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে নষ্ট করছেন ৷ ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই টাকা খরচা না-করে নিজের ঘরে এসি, মড্যুলার কিচেন বসাচ্ছেন ৷ হীরক রাজ্যের রাজার মতো আচরণ করছেন ৷ আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি এই মানসিকতাকে ৷ এবং এখানে অসংখ্য দুর্নীতি ঘটেছে বলেই আমাদের আশঙ্কা । এই উপাচার্যকে পদত্যাগ করিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছি আমরা ৷ বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠন (ভিবিইউএফএ)-এর সভাপতি তথাগত চৌধুরী বলেন, “এটা গুরুতর অভিযোগ, আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছি ৷” শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লীতে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের সরকারি বাসভবন ‘পূর্বিতা’ অবস্থিত ৷ এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, সরকারি ভাবে অনুমোদন নিয়েই সব কিছু হয়েছে ৷ আর এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বিশ্বভারতীরই সম্পত্তি ৷ তাই প্রশ্ন থাকতেই পারে না ৷ দ্বিতীয়ত, আমরা এই সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও চিঠি পাইনি ৷ বাসভবন সংস্কার ও আধুনিকীকরণের জন্য মোট খরচ হয়েছে 74 লক্ষ 45 হাজার টাকা ৷ আসবাবপত্র, পর্দা, এয়ারকন্ডিশনের জন্য খরচ হয়েছে মোট 30 লক্ষ 50 হাজার 800 টাকা ৷ সিনিয়র অফিসার কোয়ার্টার, সীমানা প্রাচীর ও আধুনিক রান্নাঘরের জন্য মোট খরচ 42 লক্ষ 32 হাজার টাকা ৷ এছাড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ-সহ বাতি লাগাতে আরও 10 লক্ষ 86 হাজার 776 টাকা এবং 5 লক্ষ 5 হাজার 602 টাকার পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় পূর্ত বিভাগের তরফে বিশ্বভারতী কর্তপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে ৷ এই খরচের বহর বিস্বভারতীর মানদণ্ডে কালো দাগ তা মানছেন শিক্ষামহল।

Scroll to Top