যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নাম পরিবর্তন করে ঋষি অরবিন্দ বিশ্ববিদ্যালয় নাম করা হোক
দাবি শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের

৩৬৫ দিন। এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বেদ পাঠ ও নাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হল। ক্যাম্পাসের ভেতরে ত্রিগুণা সেন মঞ্চে জাতীয়তাবাদী সংগঠন হরিপদ ভারতী স্মৃতি রক্ষা সমিতির ব্যানারের উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে বেদ পাঠ ও নাম সংকীর্তন এর আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনের বিষয়, “জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক ভারত”। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা, সুখেন্দু শেখর রায়, যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতৃত্ববৃন্দ।
এছাড়াও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে নেতৃত্ববৃন্দ এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলন থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘ঋষি অরবিন্দ বিশ্ববিদ্যালয়’ নাম করার দাবি তুলেছেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, “এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে ঋষি অরবিন্দ ও তাঁর ভাবধারার অন্যতম ভূমিকা ছিল। তাই তাঁর আদর্শের প্রতি সম্মান জানিয়েই এই নাম পরিবর্তনের পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। ত্রিগুণা সেন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাওবাদ ও লেনিনবাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবাদের কথা বলাটাই একটা বড় লড়াই।”
অন্যদিকে এই সম্মেলনকে নিয়ে আপত্তি তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ। ছাত্র সংগঠন আরএসএফ-এর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায় অভিযোগ করেছেন, এ ভাবে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে কোনও অনুষ্ঠান করতে পারে একমাত্র কোনও শিক্ষাসংগঠন বা শিক্ষাক্ষেত্রে যুক্ত কোনও ব্যক্তি। ইন্দ্রানুজ বলেন, “২০২৫-এর মার্চে কলকাতা হাই কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছিল, যাঁরা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন রাজনৈতিক নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কোনও অনুষ্ঠান করতে পারবেন না। এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে যে সংগঠন, তা কোনও ভাবেই শিক্ষা সংগঠন নয়। তাই এটা আদালত অবমাননা।” এই সম্মেলনের বিরোধিতা করে আরএসএফ-এর তরফে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় উপাচার্যের কার্যালয়ে। একইসঙ্গে এই ধর্মীয় সম্মেলন আয়োজনের সমালোচনায় সরব হয়ে বিজয়গড় থেকে এক মিছিলের আয়োজন করে এসএফআই।
উল্লেখ্য, ত্রিগুণা সেন মঞ্চের দায়িত্ব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংসদের হাতে রয়েছে। তাদের কাছ থেকেই এই মঞ্চে কোনও অনুষ্ঠান করার অনুমতি চাইতে হয়। তবে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে ওই মঞ্চে কীকরে অনুষ্ঠান হল, তা দেখার দায়িত্বও কর্তৃপক্ষের।
একথা স্বীকার করেছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই ত্রিগুণা সেন মঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। চিরঞ্জীব বলেন, “এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও যোগ নেই। আমাদের অনুষ্ঠান নয়।” এদিন ক্যাম্পাসের ভেতরে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের তরফে ‘তেরঙ্গা যাত্রা’, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন-সহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে বেদ পাঠ ও নাম সংকীর্তনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এর আগে দেখতে পাওয়া গিয়েছে, আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম বলেছিলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বামপন্থী রাজনীতি তিনি নিকেশ করবেন। দিল্লির জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটিতেও এই বামপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির একাধিক নেতৃত্ব। এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বামপন্থী ঐতিহ্য পুরোপুরি মুছে ফেলতে ডিরেক্ট একশনে নেমেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

Scroll to Top