ব্যস্ততম শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ফুড কোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কিত যাত্রীরা

৩৬৫ দিন। সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিনে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হলো। সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার গেটের পাশে এবং ট্যাক্সি স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ফুড কোর্টে আচমকাই আগুন ধরে যায়। রেস্তোরাঁটি একটি আবদ্ধ স্থানে হওয়ায় দেখতে দেখতে কালো ও ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা স্টেশন এলাকা। অফিস টাইমে স্টেশনে উপস্থিত হাজার হাজার যাত্রীর মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ৩টি ইঞ্জিন। সঙ্গে যোগ দেয় কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও রেল পুলিশ (আর পি এফ)। বদ্ধ ফুড কোর্টের ভিতরে জমতে থাকা ধোঁয়া বার করতে এবং আগুনের উৎস চিহ্নিত করতে দমকল কর্মীরা অক্সিজেনের মাস্ক পরে ভিতরে প্রবেশ করেন এবং কাচ ও কাঠের দরজা ভাঙতে শুরু করেন। পাশাপাশি বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভেতর থেকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারগুলি দ্রুত বাইরে বের করে আনা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে সমস্ত গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও রেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রান্নাঘরের একটি ‘ফ্রাইং প্যান’-এ থাকা তেল অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তেলের আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছাদের ডাক্ট, এসির ভেন্ট ও ইনসুলেশন সামগ্রীতে ধরে যায়। দমকলকর্মীদের টানা প্রচেষ্টায় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে এটি মূল স্টেশন ভবনের বাইরে হওয়ায় ট্রেন চলাচলে কোনও প্রভাব পড়েনি। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফুড কোর্টের লাইসেন্স স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে এই অগ্নিকাণ্ড বেশ কিছু গুরুতর প্রশাসনিক গাফিলতি ও সুরক্ষার অভাবকে সামনে এনে দিয়েছে। দমকল আধিকারিকদের অভিযোগ, বিপদের সময় ফুড কোর্টের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা মোটেই কাজ করেনি। এমনকি শিয়ালদহ স্টেশন থেকেও পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়নি, ফলে দমকল কর্মীদের নিজস্ব ইঞ্জিনের জল দিয়েই কাজ চালাতে হয়। উল্লেখ্য, এই নির্দিষ্ট ফুড কোর্টটিতে গত বছরও একইভাবে আগুন লেগেছিল। বছর না ঘুরতেই ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ব্যবসায়ীদের চরম অসচেতনতাকেই তুলে ধরে। সম্প্রতি তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, এবং তার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতায় আবার একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের তল্লাটে একটি হোটেলের থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। পরপর এই দুই মর্মান্তিক ঘটনার পরও শিয়ালদহের মতো অন্যতম ব্যস্ত স্টেশনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির এই রূপ উদাসীনতা শহরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল প্রশাসনের ওপর।

Scroll to Top