৩৬৫ দিন। পুলিশের হেফাজতে মারা গেছে এটা দিনের আলোর মতো সত্যি। কতটা শারীরিক অত্যাচারে মারা গেছে, সেটা আমরা বলতে পারব না। তিনজন ডাক্তারের উপস্থিত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা যাবে। আইও-কে সাসপেন্ড করছি। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ম্যাজেস্ট্রেরিয়ান ইনকোয়ারি দায়িত্ব দিচ্ছি। এভাবেই আজ সকালে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়িতে ছুটে গিয়ে পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যুর অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশের অমানুষিক অত্যাচারের ফলেই তৃনমূল কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে গতকাল আক্রান্ত হওয়ার পরেও হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ছুটে গিয়ে নিরপেক্ষ বিচারের দাবি তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতার তরফে দাবি তোলার পরে 24 ঘন্টা কাটতে না কাটতেই কার্যত নজিরবিহীন ভাবে হালিশহরে ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিরোধীদলের কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী
হালিশহরের নিহত বিরজু কেওট মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সক্রিয় তৃণমূল কর্মী এবং প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী হওয়া সত্ত্বেও আজ তার বাড়িতে রাতের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছুটে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বলেন, প্রয়াত বুদ্ধবাবু ও মমতার সময়ে একটা উদাহরণ দেখাতে পারবেন না, যে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা লোকের বাড়িতে এসেছেন। এই উদাহরণ পাবেন না। মৃতের পরিবার পুরোটাই তৃণমূল করে। মৃতের পরিবারের স্ত্রী কাউন্সিলর।
নিহতের স্ত্রীকে চাকরি ও আর্থিক সহায়তা
পুলিশ হেফাজতে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়টকে মুখ্যমন্ত্রীর এটেনডেন্ট পদমর্যাদায় মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল কর্তার মৃত্যুতে তার দুই সন্তানের যাতে পড়াশোনা বা বেড়ে ওঠার সমস্যা না হয় তার জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত মৃতের পরিবার দুটো জিনিস চেয়েছে। বলেছে আমরা জেনেছি শারীরিক অত্যাচার হয়েছে। দোষী পুলিশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মৃতের দু’টি সন্তান আচ্ছা। তাঁদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিতে হবে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বছরে তিনজন অ্যাটেনডেন্ট পাই। ওঁর স্ত্রীকে আমার অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি দিলাম। উনি শোক কাটিয়ে ওঠার পর লোকাল থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। এই অ্যাটনডেন্টরা ১৫ হাজার টাকা বারো মাস পায়। ১২ মাস শেষ হলে গ্রুপ ডি-তে স্থায়ী নিয়োগ হন। বারেবারে বলেছি মৃত্যু অর্থ দিয়ে হয় না। তবে মুখ্যমন্ত্রীর তো দায়িত্ব থাকে। ওরা অর্থ চায়নি। তবে আমি মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছি।
পাশাপাশি নিহতের পরিবার বিচারের জন্য রাজ্য পুলিশের উপরে ভরসা রাখছেন বলে তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যে ছেলেটি মারা গিয়েছেন তার পরিবার একটি কাগজ দিয়েছে। এখানে অর্জুন সিং, লোকাল বিধায়ক, ডিজিপি আছেন। পরিবারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। তারা এই মৃত্যুকে নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান কাউকে দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পর বাড়ি লোক দেখা করেননি। মৃতের দাদা বলছিলেন, আমি বিচার চাই আর বিচার দিতে পারবে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন। পরিবার পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা রেখেছেন। এটা পাওনা।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করে নিহতের স্ত্রী বলেন, এখন তো বলতে গেলে, উনি এখন বিজেপি নন। উনি এখন জনসাধারণের মুখ্যমন্ত্রী। তো সেক্ষেত্রে আমিও এখন বর্তমানে কাউন্সিলর নই। আমি এখন বিরোধী পার্টি নই। কারণ যেটা চলে গেছে, সেটা তখন আমি ছিলাম কাউন্সিলর, এখন আমি সাধারণ মানুষ। তো সেদিক থেকে আমি বিচার পাব, আমি আশাবাদী।
অভিযোগপত্রে লেখা আছে যে, আমার হাজব্যান্ডকে ওরা কীভাবে মেরেছে। কোথায় কোথায় ক্ষত আছে, ওর হাতদুটোকে বেঁধে মারা হয়েছে। হাতে দড়ির দাগ রয়েছে। পায়েও বেঁধে মারা হয়েছে। পায়ের নীচে কালো কালো হয়ে গিয়েছে। সম্ভবত, গরম জলের উপর ওর পা-টা রাখা হয়েছিল, পেরেক দিয়ে মারা হয়েছে, ঠিক এই অংশে দুটো ফুঁটো আছে। পেরেক যেমন ঢুকে গেলে ফুটো হয়, ওরকম দুদিকে ওখান থেকেও ব্লিডিং হচ্ছে। আর কানের পশ্চাদ অংশে রক্ত পুরো জমাট বেঁধে গিয়েছিল।
সকালেই হালিশহরে মুখ্যমন্ত্রী, নিহত তৃণমূল কাউন্সিলরের পরিবারকে ১০ লক্ষ ক্ষতিপূরণ
- khabar365din
- August 10, 2026
- 4:20 pm
- No Comments





