ডুরান্ড কাপে কোয়াটার ফাইনালে বাগান

মোহনবাগান – ৬ সিআইএসএফ -০
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী, হল হাফ ডজন গোল। মিস হল আরও হাফ ডজন। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে সোমবার মোহনবাগান যে স্কোর লাইন দাঁড় করাল সেটা অনায়াসে ডবল ডিজিট হতে পারত। তবে সেটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট। সবে ফুটবল মরশুম শুরু হয়েছে। দল একটু করে পিকআপ নেবে সেটাই স্বাভাবিক। ফুটবল বিজ্ঞান মেনেই এগোতে চান বাগানের নতুন গ্রিক কোচ।সিআইএসএফের বিরুদ্ধে আক্রমণভাগে সাহাল, লিস্টন, মনবীরদের সঙ্গে বিদেশি হিসেবে ছিলেন ডেজান ড্রাজিক। রিজার্ভে ছিলেন মিগুয়েল ফিগুয়েরা ও জেমি ম্যাকলারেন। প্রথম ১৫ মিনিট একটু গুছিয়ে নিতে সময় লাগে মোহনবাগানের। প্রথম গোল এল ১৭ মিনিটে। প্রতিপক্ষ রক্ষণের ভুল বোঝাবুঝিতে বল চলে আসে সাহালের পায়ে। ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন। পরের মিনিটেই আবার গোল। এবার আরও সহজ। মাঝমাঠ থেকে থ্রু বল পেয়ে ড্রাজিক বক্সের মধ্যে ঢুকে যান। সেখান থেকে সেকেন্ড বারে সাহালকে পাস দেন। তাঁর আশেপাশে আর কেউ ছিল না।তৃতীয় গোল এল ২৪ মিনিটে। বিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাঁধে নিয়ে দারুণ গোল করেন মনবীর সিং। তাঁর একটি পেনাল্টির আবেদনও নাকচ হয়। ৩৬ মিনিটে ৪-০ করেন সাহাল। বক্সের মধ্যে দু-তিনজনকে কাটিয়ে গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধে আর কোনও গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে সময় লাগল আরও ২০ মিনিট। বদলি হিসেবে নেমেই গোলের দেখা পান জেমি ম্যাকলারেন। এখনও পুরো ফিট নন। তবে এতদিন পর মাঠে ফিরে ‘গোল্ডেন টাচ’ ভোলেননি। বক্সের বাঁপ্রান্তে বল ধরে নিখুঁত প্লেসিংয়ে গোল করে যান তিনি। ৭২ মিনিটে গোল করেন অভিষেক টেকচাম সিং।গ্রুপ পর্বে তিনে তিন জয়। ডার্বিজয়। তিন ম্যাচে ১৫ গোল। তার মধ্যেও এই ম্যাচে চিন্তা থেকে গেল। আগের ম্যাচে মনবীর হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এই ম্যাচে সক্রিয় থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। কখনও ভুল জায়গায় পাস দিচ্ছেন, কখনও বা বাইরে মারছেন। তবে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার লিস্টন কোলাসোকে নিয়ে। গতিতে হয়তো প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিচ্ছেন। কিন্তু ঠিকভাবে শটও নিতে পারছেন না। রিসিভ করতেও সমস্যা হচ্ছে। এদিন মাঠে নামেননি মিগুয়েল। সবুজ-মেরুন জার্সিতে তাঁকে এদিনও দেখা গেল না। ডুরান্ডের পরের পর্বে মিগুয়েল ম্যাজিক দেখার অপেক্ষা থাকবে মোহনবাগান সমর্থকদের। আগামী ১৭ তারিখ আবার ডুরান্ড কাপে ম্যাচ মোহনবাগানের। ম্যাচ শেষে হ্যাটট্রিক করা সাহাল জানিয়ে গেলেন, গোলের ব্যবধান তাদের খুশি করেছে যেমন, তেমনই অনেক জায়গায় উন্নতি করার প্রয়োজন আছে মোহনবাগানের। আগামী একদিন বিশ্রাম নিয়ে আবার অনুশীলন শুরু করবে দল। সেখানেই কোচ এই ম্যাচের ভিডিও এনালিসিস দেখিয়ে কার কোথায় ভুল হচ্ছে ধরিয়ে দেবেন। ম্যাচ শেষে পানোস বলে গেলেন, মিগুয়েলকে নামানোর ইচ্ছে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি। তবে পরের ম্যাচে ও নিশ্চয়ই খেলবে। আমাদের কাছে গোলের ব্যবধান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, সেভাবেই কতটা কন্ট্রোল রাখতে পারছি খেলায় সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভুলে যাবেন না সবে মাত্র তিনটে ম্যাচ খেলেছি। তবে অল্প সময় হলেও ম্যাকলারেন যেটুকু খেলেছে এবং গোল করেছে তাতে আমি খুশি।
লিস্টন, মনবীর হয়তো কিছু গোল মিস করেছে। কিন্তু ওরা প্রচুর পরিশ্রমও করেছে। গোলের কাছে পৌঁছেছে। হয়তো দেখলেন পরের ম্যাচগুলোই ওরাই একাধিক গোল করছে। সমর্থকদের বলব পাশে থাকুন। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই লড়াই করছি। মোহনবাগানই দেশের সেরা দল। যেই আসুক, আমাদের পরে থাকবে তারা।

Scroll to Top